১৬ অক্টোবর নাইরোবিতে জনতার ভিড়ে গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের রাইলা ওডিঙ্গার সমর্থক ও শোকাহতরা আড়ালের জন্য দৌড়াচ্ছেন। ছবি : এএফপি
মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর: কেনিয়ার বিশিষ্ট সামসামরিক ও রাজনৈতিক নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাইলা ওডিংগা-র লাশ দেশে প্রত্যাবর্তনের সময় ও পরবর্তী গণভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ন্যূনতম চারজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন-তথ্যগুলো প্রথম দিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আসে এবং প্রাথমিকভাবে হতাহত সংখ্যা নিয়ে রিপোর্টগুলোর মধ্যে ভিন্নতা ছিল। রবিবার (১৬ অক্টোবর ২০২৫) নাইরোবি ও আশপাশে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে।
ওডিংগা মারা যাওয়ার পর তাঁর লাশ ভারতের একটি হাসপাতালে থেকে দেশান্তরিত করে আনা হলে হাজার হাজার অনুরাগী বিমানবন্দরে জমায়েত হন এবং আভ্যন্তরীন অনুষ্ঠান ও গণভিড়ের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে-ঐতিহ্যবাহী অভিবাদন অনুষ্ঠান ব্যাহত হয়।
পরে লাশটি একটি স্টেডিয়ামে রাখা হলে সেখানে ভিড় আরও বাড়ে এবং দরজা ও সীমানা ভেঙে ভিড়ের চাপ সৃষ্টি হয়; এই পরিস্থিতি সামলাতে নিরাপত্তা বাহিনী টিয়ার গ্যাস, লাঠি ও উত্তেজিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুলি ছোড়ার পদক্ষেপ নেয়। গুলিতে প্রথমদিকের রিপোর্টে দুজন নিহত হওয়া জানানো হলেও পরে বিভিন্ন সূত্র বলেছে মৃতের সংখ্যা বেড়ে তিন-চারজন পর্যন্ত পৌঁছেছে।
প্রাথমিক আন্তর্জাতিক রিপোর্টগুলোতে দুইজন নিহত বলে জানানো হলেও পরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো চার ব্যক্তি নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। হতাহতের সঠিক চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও পরিবর্তনশীল; আহতের সংখ্যা বিশেষজ্ঞ সূত্রে দশের ও শতাধিক উভয় ধারার খবর পাওয়া গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছে সাধারণ দর্শক ও কিছু নিরাপত্তাকর্মী; স্থানীয় হাসপাতালে ভিড়ের জন্য সেবা প্রাথমিকভাবে চাপের মুখে পড়ে। কর্তৃপক্ষ বলছে আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যাপক ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন এবং কিছু মুহূর্তে গুলি নিক্ষেপ করা হয়েছিল বলে পুলিশ কিছুতেই বলেছে তারা দাবি করেছে পরিস্থিতি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রণহীন ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনা অনুসন্ধান করে যারা আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠানকে শৃঙ্খলায় পুনরায় আনার উদ্দেশ্যেই তারা মোতায়েন ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
রাইলা ওডিংগা ছিলেন কেনিয়ার অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, বহুবার প্রেসিডেন্টপ্রার্থী এবং দীর্ঘ সময় ধরেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মুখ হিসেবে দেখা হতেন। তাঁর প্রতি ব্যাপক জনগণীয় সমর্থন থাকায় তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ভিড় ও নিহত-আহতের ঘটনা দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্তারা ভূয়ো সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছেন ওডিংগার মৃত্যুর পর যে জনসমাগম ঘটল, সেটি কেন দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত করা যায়নি সে বিষয়ে কঠোর প্রশ্ন উঠছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ঘটনার বিষয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং কীভাবে এমন ভিড়কে নিয়ন্ত্রণ করা যেত তা নিয়ে তদন্ত দাবি করেছে। কেনিয়ার সরকার শোক পালন এবং নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিলেও, রাজনৈতিক নেতারা বিশেষত ওডিংগার সমর্থকরা এ ঘটনাকে নিরাপত্তা বাহিনীর বেআইনি ও অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রদর্শন হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষমতাপ্রদর্শনে রূপ নিতে পারে বলে তারা শঙ্কা করছেন।