মেলবোর্ন, ১৭ অক্টোবর: মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক ব্রিটিশ অভিযানে ১৯৫৩ সালে অংশ নেওয়া দলের শেষ জীবিত সদস্য হাঁটলেন না কাঠমান্ডুতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে কাঞ্চা (কাঁচা) শেরপা মারা গেছেন। তিনি ৯২ বছর বয়সে কাপন এলাকায় নিজ বাসভবনে শান্তিপূর্ণভাবে ইন্তেকাল করেছেন বলে নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করেছে।
নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফুর গেলজে শেরপা জানিয়েছেন, কাঞ্চা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং কাপনস্থ তাঁর বাসভবনে মারা গিয়েছেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের মাঝে রয়েছেন; তাঁদের অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে শোকসভা ও জানাজার সময়সূচি শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
কাঞ্চা শেরপা ১৯৫৩ সালের ব্রিটিশ মাউন্ট এভারেস্ট অভিযানের অন্যতম প্রধান শেরপা কোল রই ছিলেন ওই অভিযানে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নরগে শেষ পর্যন্ত শিখরে ওঠেন; কাঞ্চা নিজে শিখরে পৌঁছাননি, তবে তিনি দলের এক গুরুত্বপূর্ণ শৃঙ্খলা ও সাপোর্ট সদস্য ছিলেন। তিনি উচ্চশ্রেণীর পোর্টার ও ক্যাম্প গাইড হিসেবে কাজ করেছেন এবং শিখরের আগের তল্লাট (ফাইনাল ক্যম্প) পর্যন্ত পৌঁছানো শেরপাদের মধ্যে ছিলেন; পরে তাঁরা শিবিরে মিলিত হয়ে সাফল্য উদযাপন করেন।
নামচে বাজারে জন্মগ্রহণ করা কাঞ্চা মাত্র ১৯ বছর বয়সে পেশাদারভাবে পর্বতারোহী হিসেবে যুক্ত হন। তিনি কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত অভিযানে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীকালে তেঁতাল্লিশে পর্বতারোহী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আধুনিক এভারেস্ট পর্যটন ও প্রচুর ভীড়-বিষয়ক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতীয়/আন্তর্জাতিক অভিযাত্রী সংখ্যার অতিরিক্ততা, পরিভ্রমণজনিত আবর্জনা ও পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়ে সতর্ক করেন।
পার্বত্য ও পর্বতারোহী সম্প্রদায়ের নেতারা কাঞ্চা শেরপার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন; তাঁকে একজন “জীবন্ত ইতিহাস” ও শেরপা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও পর্বতারোহী সংগঠনগুলি তাঁর মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এভারেস্ট পর্বতারোহন ও ট্রেকিং ইতিহাসে তাঁর অবদান সম্বর্ধনা জানিয়েছেন।
কাঞ্চা শেরপা স্ত্রী, ছয় সন্তান ও নাতি-নাতনী রেখে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০১৩ সালে এভারেস্ট জয় পরিচালনার ৫০তম বার্ষিকীতে তাঁকে সম্মান জানানো হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় পর্যটন-হোটেল ব্যবসায়ও যুক্ত ছিলেন নামচের পরিবারের পরিচালিত এক হোটেলে পর্বতারোহীরা থাকে। তাঁর স্মৃতিচারণে বহু ইতিহাস ও দলীয় কাহিনি আজও জীবিত রয়েছে।