বিদেশি নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- বিদেশি নাগরিকদের উদ্দেশে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সুবিধার অপব্যবহার করলে ভিসা বাতিলসহ কড়া পদক্ষেপ নেয়া হবে…
মেলবোর্ন, ২৭ অক্টোবর: লন্ডনের বিখ্যাত মানবাধিকারভিত্তিক আইন সংস্থা Doughty Street Chambers বাংলাদেশের সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ-এর পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রসিকিউটরের কাছে একটি আর্টিকেল ১৫ যোগাযোগ (Article 15 Communication) দাখিল করেছে। এই অভিযোগে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ (Crimes Against Humanity) হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কী অভিযোগ তোলা হয়েছে?
ব্রিটিশ আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কেসি (Steven Powles KC) Doughty Street Chambers-এর একজন সিনিয়র ব্যারিস্টার এই আবেদনটি দাখিল করেন।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে:
Doughty Street Chambers কারা?
লন্ডনভিত্তিক এই সংস্থাটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনে বিশেষভাবে খ্যাত। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই চেম্বারে প্রায় ২০০ জনের বেশি ব্যারিস্টার রয়েছেন।
তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন: এডওয়ার্ড ফিটজগেরাল্ড KC, স্টিভেন পাওলস KC, জিওফরি রবার্টসন KC, এবং মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনি (সাবেক সদস্য)। Doughty Street Chambers আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, যুদ্ধাপরাধ, এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার মামলায় বৈশ্বিকভাবে পরিচিত।
কেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অধ্যাপক ইউনুসের সঙ্গে করেননি?
জুন ২০২৫-এ লন্ডনে সফরের সময় বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ করেন।
তবে ব্রিটিশ সরকার শেষ মুহূর্তে বৈঠকটি বাতিল করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইউকে সরকার কূটনৈতিক কারণ ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির জটিলতার কথা উল্লেখ করে সাক্ষাৎটি বাতিল করে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমার জানতেন যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বাংলাদেশ সম্পর্কিত একটি মামলার ফাইল প্রক্রিয়াধীন, এবং ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দূরত্ব বজায় রাখা’কে অনেকেই রাজনৈতিক সতর্কতা ও কূটনৈতিক দূরদর্শিতা হিসেবে দেখছেন।
যদি অধ্যাপক ইউনুস দোষী সাব্যস্ত হন, কী হতে পারে?
যদি আইসিসি তদন্ত শুরু করে এবং অধ্যাপক ইউনুস বা অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অন্য কেউ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে, আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করতে পারে। তারা ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা বা অন্য যে কোনো রোম স্ট্যাটিউট-স্বাক্ষরকারী দেশে প্রবেশ করলে অবিলম্বে গ্রেফতার হতে পারেন।আদালত দোষ প্রমাণিত হলে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত দিতে পারে। দোষী ব্যক্তিদের সম্পত্তি জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, ও আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক নিষিদ্ধতা জারি হতে পারে। তবে আইসিসি মৃত্যুদণ্ড দেয় না আদালত কেবল কারাদণ্ড ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ দিতে পারে।
বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ ২০১০ সালে রোম স্ট্যাটিউট অনুমোদন করায় দেশটি আইসিসির বিচারিক আওতায় পড়ে।
তবে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি এখনো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আইনজীবীর সাথে কথা বললে তিনি বলেন আর্টিকেল ১৫ যেহেতু দাখিল করা হয়েছে সেহেতু আন্তর্জাতিক আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে বলে ধরে নিতে হবে।
যদি তদন্ত শুরু হয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকার বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে প্রক্রিয়া শুরু হবে। বাংলাদেশ ২০১০ সালে রোম স্ট্যাটিউট অনুমোদন করায় দেশটি আইসিসির বিচারিক আওতায় পড়ে। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি এখনো। যদি তদন্ত শুরু হয়, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সরকার বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সূত্র: Doughty Street Chambers
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au