নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়ী হওয়া জোহরান মামদানির নাম বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রেন্ডিং টপিক’।
মেলবোর্ন, ৫ নভেম্বর- নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে জয়ী হওয়া জোহরান মামদানির নাম বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ট্রেন্ডিং টপিক’। তবে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মেঘমল্লার বসুর মতে, বাংলাদেশিরা এই উদযাপন মূলত তার মুসলিম পরিচয়ের কারণে করছে। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “জোহরান মামদানিকে বাংলাদেশের রাইট উইং তার মুসলিম পরিচয়ের কারণে সেলিব্রেট করছে, কারণ তিনি বাংলাদেশি নন।”
মেঘমল্লার আরও মন্তব্য করেছেন, যদি মামদানি বাংলাদেশি হতেন, তবে তার অন্যান্য পরিচয়গুলো। যেমন ভারতীয় হিন্দু মা মীরা নায়ারের সন্তান হওয়া, সমাজতন্ত্রী রাজনীতি করা, শিল্পী স্ত্রী রামা দুওয়াজিকে বিয়ে করা, কিংবা সমকামী অধিকারের পক্ষে অবস্থান, এসব নিয়েই তাকে ভিন্নভাবে দেখা হতো। তিনি বলেন, “বাংলাদেশি হলে তার প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই তাকে ‘শাহবাগী’ ট্যাগ দিত, মুসলমান নয়।”
৩৪ বছর বয়সে জোহরান মামদানি ইতিহাস গড়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। একই সঙ্গে, গত এক শতাব্দীতে তার চেয়ে কম বয়সী কোনো মেয়র নিউইয়র্কে নির্বাচিত হননি।
ডেমোক্রেটিক সমাজতান্ত্রিক এই তরুণ রাজনীতিক বড় ব্যবধানে হারিয়েছেন সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুয়োমো এবং রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে। তার ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের অনলাইন ব্যবহারকারীরাও উদযাপন করছে।
জোহরান মামদানি পেশায় একজন সমাজকর্মী ও রাজনীতিক। নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়া এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রগতিশীল, বহুত্ববাদী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের পক্ষে।