আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ নভেম্বর- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনৈতিক মাঠ। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এরই মধ্যে অনানুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গেছে। অক্টোবর মাসে একাধিক সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হন, আর নভেম্বরের শুরুতেই সহিংসতায় প্রাণ গেছে আরও একজনের।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সরওয়ার হোসেন বাবলা নামে এক ব্যক্তি নিহত হন, গুলিবিদ্ধ হন এরশাদ উল্লাহসহ আরও কয়েকজন। একই দিন রাতে রাউজানেও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। যদিও এই ঘটনাকে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট না বলে বিবদমান দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরোধ বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা। ছবিঃ সংগৃহীত
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদত হোসাইন জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তিন ধাপে কাজ করছে। নির্বাচন-পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী। বর্তমানে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চলছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৯১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত আটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটিতেও সহিংসতা এড়ানো যায়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে সহিংসতার মাত্রা আরও বেশি ছিল। সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ঘটে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে, যেখানে ১৪১ জন নিহত হয়েছিলেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে সহিংসতা কম হলেও, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন ছিল উত্তপ্ত। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ২১ জন নিহত হন, ভোটের দিনেই ১২ জনের মৃত্যু হয়। নির্বাচন কমিশন সহিংসতার কারণে ৫৯৬টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করে। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রচারণা শুরু থেকে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত ২২ জন নিহত ও দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের ওপর হামলা ও গ্রেপ্তারের কারণে সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়েছিল।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের একপক্ষীয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই মাসে অন্তত ১৮ জন নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত হন। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস জানায়, ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৫০টি বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার ঘটনা ঘটে।
মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, “নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও সহিংসতা এটিকে বিপজ্জনক করে তুলছে। একজন প্রার্থী গুলিবিদ্ধ ও একজনের মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা।” তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোরভাবে নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, ক্ষমতার একচ্ছত্র দখলের আকাঙ্ক্ষা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং আইন প্রয়োগে শৈথিল্য। এসবই সহিংসতার মূল কারণ। নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতা ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণও পরিস্থিতি জটিল করছে। সহিংসতা শুধু প্রাণহানি ঘটায় না, এটি ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করে, গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে এবং দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
দেশের রাজনীতিতে নির্বাচন মানেই এখন যেন সহিংসতা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এবারও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবারও বাংলাদেশ আরও এক দফা রাজনৈতিক সহিংসতার মুখে পড়তে পারে।
সুত্রঃ কালের কন্ঠ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au