ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে হুমায়ুন কবীর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলাকালীন বৃহস্পতিবার সকালেই তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গেলে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ঘেরাও ও বিক্ষোভের মুখে পড়েন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তি থেকে শুরু করে স্লোগানবাজি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি সোমপাড়া গ্রামে সপরিবারে ভোট দেন এবং পরে নিজের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নওদা বিধানসভা এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে যান। অভিযোগ, নওদা বিধানসভা এলাকার ১৭৩ এবং ১৭৪ নম্বর বুথের কাছাকাছি পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়।
অভিযোগ ওঠে, ১৭৩ ও ১৭৪ নম্বর বুথ থেকে হুমায়ুন কবীরের দলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এই খবর পাওয়ার পরই তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখনই তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ঘটনার সময় এলাকায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশ যৌথভাবে হস্তক্ষেপ করে হুমায়ুন কবীরকে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এলাকাজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ বজায় থাকে।
নওদা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি সফিউজ্জামান শেখের নেতৃত্বে বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভ চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই হুমায়ুন কবীরকে মারধরের চেষ্টা করা হয়। যদিও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে হুমায়ুন কবীরের দলের লোকজন বুথে ঢুকে ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
বিক্ষোভের সময় ‘চোর চোর’ স্লোগানও শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর কিছুটা দূরে গিয়ে রাজ্য সড়কের উপর বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন হুমায়ুন কবীর। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা না নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। তাঁর দাবি, তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি নওদা এলাকা ছাড়বেন না।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ না তিনি সঠিক বিচার পান, ততক্ষণ তাঁর অবস্থান চলবে এবং এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একই দিনে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম।
হুমায়ুন কবীর এবার নতুন রাজনৈতিক দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে মুর্শিদাবাদের নওদা এবং রেজিনগর বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সূত্রঃ এবিপি আনন্দ