সন্তানকে সম্পত্তি দানের পরও বাবা-মায়ের অধিকার, সংসদে বিল পাস
সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে…
মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে রাজনীতি ও সন্ত্রাসের মেলবন্ধন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগের সময় গুলিতে নিহত সরওয়ার হোসেন বাবলার সঙ্গে একাধিক রাজনৈতিক নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ঘনীভূত হয়। এতে প্রশ্ন উঠেছে, রাজনীতিবিদরা সন্ত্রাসীদের কাছে টানছেন, নাকি সন্ত্রাসীরাই রাজনীতির ছায়া খুঁজছে?
নগরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক সূত্রের তথ্য বলছে, ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনাময় দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছে সন্ত্রাসীরা। নিহত সরওয়ার হোসেন বাবলা ছিলেন চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ ১৫ মামলার আসামি। তাঁর সঙ্গে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া, ১৭ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বিএনপি নেতা মীর হেলাল উদ্দিনের ছবি পাওয়া গেছে। ৩৪ মামলার আসামি ইসমাইল হোসেন টেম্পু ও ১৮ মামলার আসামি শহীদুল ইসলাম বুইশ্যাও বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ানের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেয়।
অন্যদিকে, অতীতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও সন্ত্রাসীদের ঘনিষ্ঠতা দেখা গেছে। সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে ১৫ মামলার আসামি হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে ১৭ মামলার আসামি আলী আকবরের সম্পর্কের ছবি রয়েছে।
বুধবার এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে সরওয়ার বাবলা নিহত হন। পুলিশ বলছে, তাঁকে ঘাড়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করা হয়। ঘটনায় বিএনপি নেতা ইরফানুল হক শান্ত গুরুতর আহত। সরওয়ারের ভাই আজিজ হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি নেতা মীর হেলাল ও সন্ত্রাসী সাজ্জাদের যোগসাজশেই তাঁর ভাইকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সরওয়ারের বাবা আব্দুল কাদের মামলা করেছেন, যেখানে সাজ্জাদকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে মীর হেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসী তাঁর অনুসারী নয় এবং কেউ তাঁর নাম ব্যবহার করলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত।
এদিকে, চান্দগাঁও এলাকায় টেম্পু ও বুইশ্যা বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে সংঘর্ষ বাড়ছে। টেম্পুর বাহিনীতে অর্ধশতাধিক তরুণ সন্ত্রাসী সক্রিয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চান্দগাঁও থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন, টেম্পু ও বুইশ্যাকে ধরতে অভিযান চলছে, কিন্তু তারা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের সময় চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়। নাগরিক সংগঠন “সুশাসনের জন্য নাগরিক”-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “আগে যারা আওয়ামী লীগের ছায়ায় ছিল, এখন তারা বিএনপি বা জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। নির্বাচন এলেই এই সন্ত্রাসী সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।”
চট্টগ্রামের চলমান এই সহাবস্থান আবারও ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে সন্ত্রাসীরা এখনো বড় হাতিয়ার হয়ে আছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au