ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক লালকেল্লার পাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩ জনের। ছবিঃ এনডিটিভি
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঐতিহাসিক লালকেল্লার পাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮ জনের, আহত হয়েছেন আরও ২৪ জনের বেশি। সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি যাত্রীবাহী গাড়িতে বিস্ফোরণ হলে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় এবং চারপাশে সৃষ্টি হয় তীব্র বিশৃঙ্খলা।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে বিষ্ফোরিত গাড়ির মালিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পুলিশ ওই গাড়ির মালিকে বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গাড়িটি কিছুদিন আগে চুরি হয়েছিল।
বিস্ফোরণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত এলাকা
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লা ট্রাফিক সিগন্যালের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হুন্দাই আই২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গাড়িটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়, আশপাশের আরও ২২টি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে ছিন্নভিন্ন মরদেহ ও ধ্বংসস্তূপ।
দিল্লি পুলিশের কমিশনার সতীশ গোলচা সাংবাদিকদের বলেন, “বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। গাড়িটিতে যাত্রী ছিল, তারা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আশপাশের যানবাহনগুলোতেও আগুন ধরে যায়।”
দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আগুন, তদন্তে এনআইএ ও এনএসজি
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ২০টিরও বেশি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দিল্লির উপপ্রধান অগ্নিনির্বাপক কর্মকর্তা একে মালিক জানান, “সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”
বিস্ফোরণের তদন্তে ইতোমধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (এনএসজি) নামানো হয়েছে। এছাড়া, মুম্বাই, জয়পুর, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।
দিল্লিতে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা
বিস্ফোরণের পর লালকেল্লা ও এর আশপাশে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা হওয়ায় স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লালকেল্লা মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ফরিদাবাদে ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার
একই দিনে দিল্লি থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে নিরাপত্তা বাহিনী ২ হাজার ৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র, টাইমার ও রিমোটও জব্দ করা হয়।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ধারণা, এই বিস্ফোরণ ও ফরিদাবাদে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদ ও আনসার ঘাজওয়াত-উল-হিন্দের যোগ থাকতে পারে।
মোদিকে ব্রিফ করলেন অমিত শাহ
বিস্ফোরণের ঘটনার পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দিল্লি পুলিশ কমিশনার, এনআইএ ও ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধানরাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সর্বশেষ তথ্য জানাচ্ছেন।
তবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু জানায়নি পুলিশ। ঘটনাস্থলে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও মোতায়েন রয়েছে।
কেজরিওয়ালের প্রতিক্রিয়া
দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, “সরকার ও পুলিশের উচিত অবিলম্বে তদন্ত শুরু করে বিস্ফোরণের আসল কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা। দিল্লির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না।”
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয়াবহ বর্ণনা
এক প্রত্যক্ষদর্শী এনডিটিভিকে বলেন, “আমি দেখেছি মানুষের দেহের অংশ আকাশে উড়ে রাস্তায় পড়ছে। শব্দ এত ভয়ঙ্কর ছিল যে আমার কানে কয়েক মিনিট ধরে ব্যথা করছিল।”
আরেকজন বলেন, “বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনের জানালা ও দরজা কেঁপে ওঠে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য এলাকা যেন কেঁপে যায়।”
ঐতিহাসিক লালকেল্লা এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা
মুঘল আমলে নির্মিত লালকেল্লা পুরনো দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এবং এটি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে, চলছে ফরেনসিক দল ও ডগ স্কোয়াডের তল্লাশি।
সূত্র: এনডিটিভি