এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে সামরিক তৎপরতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একের পর এক নতুন সেনা ঘাঁটি গড়ে তুলছে, যা বিশ্লেষকদের মতে কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বরং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক বাস্তবতার জন্য একধরনের আগাম প্রস্তুতি।
এই সপ্তাহে আসামের গুয়াহাটিতে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে অনুষ্ঠিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর বৃহত্তম বিমান মহড়া-যেখানে রাফাল, সুখোই, মিরাজ ও পরিবহন বিমান অংশ নেয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবাহিনীর বার্ষিকী উদযাপন হিসেবে ঘোষিত হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ছিল এক কৌশলগত প্রদর্শনী।
এই মহড়ার স্থান শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই স্থলপথই ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই করিডরকে ভারতের সবচেয়ে স্পর্শকাতর কৌশলগত অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারত সম্প্রতি তিনটি নতুন সেনা ঘাঁটি স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি ,
আসামের ধুবরির বামুনি এলাকায়,বিহারের কিশনগঞ্জে, এবংপশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি “অস্পষ্টতা থেকে প্রস্তুতির দিকে” ভারতের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
দ্য উইক-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘাঁটির প্রধান উদ্দেশ্য শিলিগুড়ি করিডরকে সুরক্ষিত রাখা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা বাড়ানো। এক ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “এটি দুর্বলতা দূর করার পাশাপাশি আমাদের বাহিনীকে বহুমুখী দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রদানের সুযোগ করে দিচ্ছে।”
গত সপ্তাহে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনানায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর.সি. তিওয়ারি নতুন চোপড়া ঘাঁটি পরিদর্শন করে অল্প সময়ে এর নির্মাণ সম্পন্ন করার জন্য সেনাদের প্রশংসা করেন। এই ঘাঁটি বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অপরদিকে, বাংলাদেশের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে নতুন রাডার ব্যবস্থা স্থাপনের খবরও ভারতের নজর কেড়েছে।
ধুবরির বামুনিগাঁও ঘাঁটি ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদ বরাবর নজরদারি বাড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন এই অঞ্চলটিকে ভারতের গোয়েন্দা নজরদারির ‘ব্লাইন্ড স্পট’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই ব্রহ্মপুত্র নদই বাংলাদেশে প্রবেশের পর জামুনা নামে পরিচিত।
একই সময়ে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর প্রধানের চার দিনের বাংলাদেশ সফর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ১৯৭১ সালের পর এটাই প্রথম কোনো পাকিস্তানি নৌপ্রধানের ঢাকা সফর, যার লক্ষ্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও যৌথ মহড়া বিষয়ক আলোচনা।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ও নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন,যা নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
গত মাসে ইউনূস পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে একটি বই উপহার দেন, যা নিয়ে ভারতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অভিযোগ ছিল, বইটির প্রচ্ছদে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশকে “গ্রেটার বাংলাদেশ”-এর মানচিত্রে দেখানো হয়েছে। যদিও ঢাকার অনেক নাগরিক দাবি করেন, সেটি আসলে জাতীয় পতাকার শৈল্পিক নকশা ছিল।
এর আগে বেইজিং সফরে ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে “স্থলবেষ্টিত অঞ্চল” এবং বাংলাদেশকে “সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন,যা ভারতের কৌশলবিদদের কাছে উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবে দেখা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যম বিশ্লেষণ বলছে, ঢাকা ও ইসলামাবাদের প্রতি ইউনূস সরকারের ঝোঁক নয়াদিল্লির অবিশ্বাসকে আরও গভীর করেছে। ফলে সীমান্ত ঘেঁষে নতুন সামরিক ঘাঁটির স্থাপন কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং একধরনের “প্রি-এম্পটিভ” বা আগাম সতর্ক অবস্থান যাতে সম্ভাব্য অবরোধ বা আঞ্চলিক ঘেরাও (‘encirclement’) পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা যায়।
দক্ষিণ এশিয়ার নতুন ভূরাজনীতিতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এখন কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়, বরং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যের একটি সূক্ষ্ম মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
ভারতের সামরিক প্রস্তুতি ও বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র নীতির নতুন অভিমুখ, দুই দেশকেই এমন এক কৌশলগত বাস্তবতার মুখে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে বন্ধুত্বের পাশাপাশি পারস্পরিক সন্দেহও সমানতালে বেড়ে চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au