মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে “কমেছে” বলে ধারণা তৈরি হলেও, বাস্তবে অবরোধ, বিমান হামলা ও মানবিক সংকট এখনো একই মাত্রায় চলছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গণহত্যা এখনো “অব্যাহত এবং সংগঠিতভাবে” চলছে, শুধু আন্তর্জাতিক মনোযোগ কমে যাওয়ায় তা কম দৃশ্যমান হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (OHCHR) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ ও খান ইউনুস এলাকায় হামলা নতুন করে বেড়েছে, যেখানে হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়,
“গণমাধ্যমে নীরবতা মানে বাস্তবে শান্তি নয়। গাজায় এখনো প্রতিদিন মানুষ মরছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”
ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হামাসের “অবশিষ্ট ঘাঁটি” লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বেসামরিক নাগরিকদের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে।
জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু।
তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু লাশ রয়েছে।
বর্তমানে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ জনগণ খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু সীমান্ত অবরোধের কারণে জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের ত্রাণ পৌঁছাতে পারছে না।
পানীয় জলের সংকট, ওষুধের অভাব ও অপুষ্টি শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, “প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন শিশু অপুষ্টিজনিত জটিলতায় মারা যাচ্ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজার যুদ্ধ এখন “মিডিয়া নীরবতার পর্যায়ে” প্রবেশ করেছে, যেখানে সংঘাত চললেও আন্তর্জাতিক মনোযোগ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তাদের মতে,
“ইসরায়েল এখন আন্তর্জাতিক চাপ কমে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে। যুদ্ধ কমেনি, বরং নজরদারি কমেছে।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পুনরায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডর চালুর আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“গাজায় যা ঘটছে তা কেবল যুদ্ধ নয়-এটি মানবতার বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ।”
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, গণমাধ্যমের আলো কমলেও গাজার মানুষের আর্তনাদ এখনো তীব্র।
“সংবাদে না থাকলেই যুদ্ধ থেমে যায় না,”-তারা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন বিশ্বকে।