মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- দীর্ঘ দুই শতকেরও বেশি সময় পর ইতিহাসের এক অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এক সেন্ট মূল্যের মুদ্রা যা সাধারণভাবে ‘পেনি’ নামে পরিচিত,এর উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষুদ্র মুদ্রা তৈরি করতে এর মূল মূল্যের চেয়েও বেশি খরচ হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টকে উৎপাদন বন্ধে বাধ্য করেছে।
মার্কিন মুদ্রা কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি পেনি তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ২.৭ সেন্ট। তামা ও দস্তার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই খরচ বছরে প্রায় ১৪ কোটি ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। ফলে অর্থনৈতিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে এই মুদ্রা। এছাড়া আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ডিজিটাল লেনদেনের প্রসার এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমে যাওয়ায় পেনির ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
এক সেন্টের মুদ্রা প্রথম চালু হয় ১৭৯৩ সালে। তখন থেকে মার্কিন অর্থনীতিতে এটি ছিল দৈনন্দিন লেনদেনের অংশ। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের প্রতিকৃতি সংবলিত এই পেনি আমেরিকার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়ে এসেছে। তাই সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক দিক থেকে যৌক্তিক হলেও অনেক নাগরিকের কাছে তা আবেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের আর্থিক কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ধীরে ধীরে বাজার থেকে পেনি প্রত্যাহার করা হবে। তবে যারা এখনো এটি সংগ্রহে রেখেছেন, তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাংকে জমা বা বিনিময় করতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক নয়, প্রতীকীও। এটি নগদ লেনদেন নির্ভর সমাজ থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এক ধাপ অগ্রযাত্রা। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সর্বনিম্ন মুদ্রা তুলে নিয়েছে।
তবে মার্কিন নাগরিকদের একাংশের দাবি, পেনি শুধু অর্থ নয়, ইতিহাসের অংশ। অনেকেই এটিকে ‘গুড লাক কয়েন’ হিসেবে মনে করেন। তবুও অর্থনীতির চাপ ও বাস্তবতার কারণে দুই শতাধিক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে এই ঐতিহাসিক মুদ্রার অধ্যায় শেষ হতে চলেছে।
সূত্র : বিবিসি