কোন পথে হাঁটছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উভয়…
মেলবোর্ন, ১৬ নভেম্বর- মায়ানমারের পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ আরও বাড়ল। তিন দশকের বেশি সময় পর কৌশলগত গুরুত্ব সম্পন্ন মডং শহর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন বা কেএনইউ–এর সশস্ত্র শাখা কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। স্থানীয় সূত্র বলছে, কয়েক দিনের টানা লড়াইয়ের পর শুক্রবার ভোরে সরকারি বাহিনী পশ্চাদপসরণ করে এবং শহরের প্রশাসনিক ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বিদ্রোহীদের দখলে যায়।
মডং শহর কারেন রাজ্যের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে সামরিক জান্তার শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে বিদ্রোহ বাড়তে থাকলেও এই অঞ্চল তুলনামূলকভাবে সেনাবাহিনীর দখলে ছিল। এবার শহরটি হারানো জান্তার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লড়াইয়ের সময় গোলাগুলি ও বিমান হামলার ভয়াবহতা বাড়ায় বহু পরিবার আশপাশের জঙ্গলে বা সীমান্তবর্তী এলাকায় পালিয়ে গেছে। বাজার, স্কুল ও সরকারি অফিস কয়েক দিন ধরে বন্ধ। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্রোহীরা শহরের ভেতর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ও তল্লাশি চালাচ্ছে যাতে সেনাবাহিনী পিছু হটার আগে কোনো বিস্ফোরক পেতে না রেখে যায়।
কেএনইউ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তাদের এই অগ্রগতি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর অভিযানের অংশ। তারা বলছে, মডং পুনর্দখল শুধু প্রতীকী সাফল্য নয়, বরং সীমান্তপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে।
মায়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন করে সংঘাত তীব্র হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং মানবিক সহায়তার পথ সংকুচিত হবে।
মডংয়ের পতন উত্তর ও পূর্ব মায়ানমারে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে আরও দৃশ্যমান করল। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক জান্তা এখন প্রতিরক্ষামুখী হয়ে পড়েছে এবং দেশের বহু এলাকায় তাদের প্রভাব ক্রমশ কমছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au