‘নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে’
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। কয়েকটি সবজি ছাড়া অধিকাংশ সবজিই কেজিপ্রতি ৮০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায়…
মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার হরিনা গ্রামে মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েক দিন আগে হওয়া হামলার পর এলাকায় উত্তেজনা এখনও থামেনি। ঘোষপাড়া, সাহাপাড়া, জেলেপাড়া ও তাঁতিপাড়াসহ পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় গ্রাম ছাড়ছেন অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বী বাসিন্দা।
শুক্রবার সকালে গ্রামের মন্দিরসংলগ্ন স্থানে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, মামলার পর থেকে হামলাকারীরা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেছে এবং গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের ভাষায়, অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রাত কাটাচ্ছে, কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার আগে কেদার নাথ গোপ নিজের জমিতে রাধা গোবিন্দ মন্দির স্থাপন করেন। দেশত্যাগের পর গ্রামবাসীই মন্দিরের পরিচর্যা করে আসছিল। পরে কেদার নাথের আত্মীয় পরিচয়ে জয়দেব ঘোষ ওই জমি নিজের নামে নেন। জমি নিয়ে আদালতে মামলাও চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি জয়দেব ঘোষ গোপনে মন্দিরের জমি বাবুল বেপারির কাছে বিক্রি করেন।
গত ১৬ নভেম্বর ভোরে বাবুল বেপারি, জয়দেব ঘোষসহ কয়েকশ ব্যক্তি মন্দির দখলে নিতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করলে গ্রামবাসী বাধা দেয়। তখন তাদের ওপর হামলা করা হয়। ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন আহত হন। কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মালামাল লুট হয়। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
হামলার পর থানায় মামলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলার জের ধরে জয়দেব ঘোষ ও বাবুল বেপারি গ্রামবাসীর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। রাতে বিভিন্ন বাড়ির সামনে গিয়ে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে ৫ শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নন্দ ঘোষ, সুদেব মালো, শিখা রানী মালো ও স্বপ্না ঘোষ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা মন্দিরে পূজা দিয়ে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি জয়দেব ঘোষ বাধা দিতে শুরু করেন। প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা হয়। তারা বলেন, মন্দিরের জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে বিক্রি করা হয়েছে এবং এখন জোর করে হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। হামলার কিছু অংশ সিসিটিভিতে ধরা আছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
এই বিষয়ে জয়দেব ঘোষ পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার আরেক আসামি বাবুল বেপারি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সদরপুর থানার ওসি সুকদেব রায় জানান, মন্দির ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। তিনি বলেন, এলাকায় আবার কোনো অঘটন যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au