মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে আন্দোলনমঞ্চ। দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ৩০ নভেম্বর থেকে নতুন কর্মসূচিতে যাচ্ছে শিক্ষক সংগঠনগুলো।
শিক্ষকদের একটি অংশ ইতোমধ্যে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছে, যা চলবে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। ‘সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন জাতীয় সহকারী শিক্ষক ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহিনুর আক্তার।
তিনি বলেন, ২৩ ও ২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতির পর ২৫ নভেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দাবি মেনে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে পরীক্ষা বর্জন এবং লাগাতার অনশনে যাবে শিক্ষকরা।
অন্যদিকে, ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের আরেক প্লাটফর্ম ৩০ নভেম্বর থেকে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষকসহ ১১টি সংগঠন যুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সারাদেশে একযোগে সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাবেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
গত ৮ নভেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশি লাঠিচার্জ, জলকামান ও রাবার বুলেট হামলার মুখে পড়ে শিক্ষকরা। পরে ১০ নভেম্বর রাতে সরকারের কাছ থেকে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে নভেম্বরের মধ্যেই সুস্পষ্ট অগ্রগতি না থাকায় আবারও আন্দোলন পথে ফিরে আসছেন তারা।
তিন দফা দাবি:
১. সহকারী শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড প্রদান
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা
দেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি এবং শিক্ষক সংখ্যা প্রায় চার লাখ। দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আবারও কঠোর কর্মসূচির দিকে এগোচ্ছেন তারা।