মেলবোর্ন, ২৬ নভেম্বর- ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের পাঠানোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে স্থগিত থাকা কর্মীদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বোয়েসেলের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ৩১ মে’র মধ্যে সব ধাপ শেষ করেও যে কর্মীরা যেতে পারেননি, তাদের ধাপে ধাপে মালয়েশিয়া পাঠানো হবে। এর অংশ হিসেবে প্রথম দফায় ৬০ জন কর্মী ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে কর্মীদের বিদায় জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর কর্মীদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা এবং মালয়েশিয়া সরকারের আন্তরিকতার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, সরকার প্রবাসীদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ইউএইতে আটক ১৮৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মী রণি মিয়া বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় তারা প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
২০২৪ সালের আগস্টে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সফরের সময় আটকে থাকা কর্মীদের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে মে মাসে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সভায় ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব বোয়েসেলকে দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে কনস্ট্রাকশন এবং ট্যুরিজম খাতে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
উদ্যোগের প্রথম ধাপে সিএলএবি মোট ৫০০ জন কর্মীর চাহিদা জানায়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৫৫ জনের ভিসা অনুমোদিত হয়েছে এবং তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সম্পন্ন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূইয়া, বিএমইটি, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।