চট্টগ্রামে অস্ত্রের মুখে নারীকে জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা ছিনতাই
চট্টগ্রামের রাউজানে দিনদুপুরে অস্ত্রের মুখে এক নারীকে জিম্মি করে জমি কেনার জন্য নিয়ে যাওয়া ২৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল…
ভারতের উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান এ অভিযোগ তোলার পর এবার বৈঠক শেষে জামায়াত নেতাদের গাড়িতে করে বেরিয়ে আসার দৃশ্য বলে দাবি করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগটিকে ‘পুরোপুরি অসত্য ও আজগুবি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করেন রাশেদ খান। তাঁর দাবি, ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের প্রতিনিধিদল ওই গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন।
ভিডিওটির ক্যাপশনে রাশেদ খান বৈঠকের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, এটি বৈঠক শেষে জামায়াত নেতাদের বেরিয়ে আসার সময়ের দৃশ্য। একই সঙ্গে অভিযোগটি মিথ্যা হলে মিয়া গোলাম পরওয়ারকে তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
এর আগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বারিধারা এলাকার একটি বাড়িতে ভারতের উচ্চপর্যায়ের এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। ওই বৈঠকে জামায়াত নেতা এ টি এম মাছুমসহ মোট তিনজন অংশ নেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাশেদ খানের অভিযোগ, বৈঠকে আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক তৈরির বিষয়টি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারকে বৈঠকের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘অন্যথায় ধরেই নেওয়া হবে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে জামায়াত। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ফাঁদ হলো, আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ছক!’
তবে রাশেদ খানের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরিভাবে অসত্য ও আজগুবি একটা দাবি। এ ধরনের বৈঠক করার প্রশ্নই আসে না।’
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ অস্বীকার করলেও ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বেড়েছে। রাশেদ খান ভিডিওটিকে বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করলেও, শুধু ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে বৈঠকের স্থান, সময়, অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় কিংবা আলোচনার বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায় কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এখন পর্যন্ত অভিযোগের পক্ষে রাশেদ খানের প্রকাশিত ভিডিও ছাড়া অন্য কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। অন্যদিকে, মিয়া গোলাম পরওয়ার বৈঠকের অস্তিত্বই অস্বীকার করেছেন। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় ও স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এ অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের বাইরে দলীয় কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ নেই। একইভাবে, রাশেদ খানের অভিযোগের বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au