রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ নভেম্বর- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি লোডিংয়ের প্রাকপর্বে পৌঁছে গেছে। ফিজিক্যাল স্টার্টআপের প্রস্তুতি মূল্যায়নে বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বায়েরা এবং রাশিয়ার ভিও সেফটিসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিস্তৃত পরিদর্শন সম্পন্ন করেছেন। ৭ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত তারা প্রকল্পের বিভিন্ন ধাপ, অবকাঠামো এবং প্রস্তুতি পরীক্ষা করেন।
বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বায়েরা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিদর্শন দল এনপিসিবিএল–এর মানবসম্পদ, ব্যবহার করা যন্ত্রপাতির অবস্থা, বিভিন্ন সিস্টেম ও ফ্যাসিলিটি এবং পরিচালনা সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করেছে। একই সঙ্গে কমিশনিং কার্যক্রম, স্টার্টআপ প্রটোকল ও নিরাপত্তা সনদও যাচাই করা হয়।
এই ধাপকে পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফিজিক্যাল স্টার্টআপ অনুমোদন পাওয়া হলে রিয়্যাক্টরে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোডিং শুরু করা যাবে। এর পর সীমিত মাত্রায় রিয়্যাক্টরের পারমাণবিক বিক্রিয়া চালিয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।
এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি বড় আন্তর্জাতিক পরিদর্শন সম্পন্ন করা হয়েছে। বায়েরা ও রাশিয়ার রেগুলেটরি সংস্থার যৌথ পরিদর্শন শেষে বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তারা নিরাপত্তা আরও জোরদারের কিছু সুপারিশ দিয়েছেন, যা বাস্তবায়ন করছে এনপিসিবিএল।
বায়েরা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সুপারিশ পূরণ হলেই ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমোদন দেওয়া হবে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং সেফগার্ডের প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রূপপুর প্রকল্পে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য রাশিয়ার জেনারেল ডিজাইনার, রিঅ্যাক্টর প্লান্ট ডিজাইনার, কুরচাতভ ইনস্টিটিউট এবং ভিও সেফটির মূল্যায়ন প্রতিবেদনও প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সব প্রক্রিয়া সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে দ্রুতই ফিজিক্যাল স্টার্টআপ শুরু হতে পারে।