বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর করমর্দন ও আলিঙ্গনের মুহূর্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোচনায় আসে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ ডিসেম্বর- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩০ ঘণ্টার সফরে বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে পৌঁছান। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার করমর্দন ও আলিঙ্গনের মুহূর্ত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বেশ আলোচনায় আসে। পরে দুজন একই গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ৭ লোককল্যাণ মার্গে যান, যেখানে মোদি তার সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন।
শুক্রবার সকালে পুতিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর দিনজুড়ে তার বিভিন্ন কর্মসূচি আছে। এই সফরে তিনি ২৩তম ভারত রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষবৈঠকে অংশ নেবেন। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হতে পারে।
ভারতের প্রধান আগ্রহ থাকবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে। রাশিয়া থেকে আরও এস ৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে। পাশাপাশি ভারত রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে নতুন প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির বিষয়েও আলোচনা করবে। পুতিন চান দুই দেশ একসঙ্গে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সুখোই এসইউ ৫৭ তৈরি করুক। ভারত এ বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।
বাণিজ্যেও বড় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ভারত রাশিয়া থেকে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি করে থাকলেও রাশিয়ায় ভারতীয় রফতানি এখনো কম। বছরে ৫০০ কোটি ডলারের কম পণ্য রাশিয়ায় যায়। তাই ভারত চায় সমুদ্রজাত পণ্য, আলু, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও ওষুধসহ বেশ কিছু পণ্যের রফতানি বাড়াতে। রাশিয়ার শিল্পখাতে ভারতীয় দক্ষ কর্মীদের নিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার।
ইউরেশিয়ান ইকনমিক ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে এই সফরে। পুতিনের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটে রাশিয়া ছাড়াও আর্মেনিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান ও কিরঘিজস্তান রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্কবিষয়ক বিরোধের সময় থেকেই এই আলোচনায় গতি এসেছে। এবার তা চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ যাতে কোনো চাপের মুখে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে। সন্ত্রাস দমন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও দুই নেতার আলোচনায় আসবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেছেন, মহাকাশ গবেষণা, পরমাণু শক্তি, জাহাজ ও বিমান নির্মাণসহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বিষয়ে ভারত এবং রাশিয়া একসঙ্গে কাজ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও দুই দেশের আলোচনা হবে। ভারতীয় কূটনৈতিক কার্যক্রম জোরদার করতে ইয়েকাতিরিনবার্গে নতুন ভারতীয় কনস্যুলেট খোলার ঘোষণা আসতে পারে।
সাক্ষাৎকারে পুতিন মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, ভারতের অর্থনীতি ৭.৭ শতাংশ হারে এগোচ্ছে, যা মোদির নেতৃত্বের সফলতা। তিনি আরও বলেন, মোদি আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করেন না।
এ সফরকে ঘিরে ভারত রাশিয়া সম্পর্ক কোন পথে যাচ্ছে এবং মোদির নেতৃত্বে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কি আবার পুরনো ধারায় ফিরছে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। এই বৈঠকে তার ইঙ্গিত মিলতে পারে।
সূত্রঃ আনন্দবাজার