দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোওম জানিয়েছেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ৩০টির বেশি দেশ থাকতে পারে। প্রতিকী ছবি
মেলবোর্ন, ৫ ডিসেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টি নোওম জানিয়েছেন, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ৩০টির বেশি দেশ থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনই বলা সম্ভব নয়, কারণ প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দেশের মূল্যায়ন চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রশ্ন ছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তালিকায় ৩২টি দেশ থাকবে কি না। উত্তরে নোওম বলেন, তালিকাটি অবশ্যই ৩০-এর বেশি হবে। তবে কোন কোন দেশ এতে যুক্ত হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
এর আগে গত জুনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেন এবং আরও সাত দেশের ওপর সীমিত বিধিনিষেধ আরোপ করেন। প্রশাসনের ব্যাখা ছিল, বিদেশি সন্ত্রাসীসহ সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ জরুরি। অভিবাসী, পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীরাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন।
নোওম সাক্ষাৎকারে বলেন, কোনও দেশের সরকার স্থিতিশীল না হলে, নিজ দেশের নাগরিকদের পরিচয় সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে না পারলে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের ভেটিং প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা না করলে তাদের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকে না।
রয়টার্সের আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ কেবলে উল্লেখ করা হয় যে ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত ৩৬টি দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবেচনা করছে। তালিকা আরও বিস্তৃত হলে তা অভিবাসন নীতিতে প্রশাসনের কঠোরতার আরও বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হবে।
সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এই প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন একজন আফগান নাগরিক, যিনি ২০২১ সালে পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ঘটনার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি তৃতীয় দেশগুলো থেকে সব ধরনের অভিবাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবেন। যদিও তিনি কোনও দেশের নাম প্রকাশ করেননি।
এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময় অনুমোদিত আশ্রয় আবেদন এবং ১৯টি দেশের নাগরিকদের দেওয়া গ্রিন কার্ডগুলো পুনর্বিবেচনার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্রঃ রয়টার্স