ভারত থেকে পুশইনের শিকার গর্ভবতী নারী সোনালি খাতুন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ ডিসেম্বর- ভারত থেকে পুশইনের শিকার গর্ভবতী নারী সোনালি খাতুন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। প্রায় চার মাস বাংলাদেশের কারাগারে আটক থাকার পর তাকে এবং তার আট বছর বয়সী ছেলে সাব্বির শেখকে বিজিবি সোনামসজিদ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিজিবি জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা এবং মানবিক বিবেচনায় সোনালি খাতুনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সোনালি খাতুনের সঙ্গে আরও চারজন ভারতীয় নাগরিককে একইভাবে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছিল। তাদেরকেও ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ চলছে বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গত ১ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালত সোনালি খাতুন ও তার সন্তানকে স্থানীয় এক বাসিন্দার জিম্মায় জামিন দেয়। একই দিন পুশইনের শিকার অন্য চারজনও জামিন পান। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, মানবিক কারণে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর বাংলাদেশ এবং ভারতে ব্যাপক আলোচনা হয়। বিষয়টি নিয়ে ভারতের কলকাতা ও দিল্লি হাইকোর্টে একাধিক মামলা চলছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছিল, পুশইনের শিকার সবাইকে দেশে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে।
গত ২৫ জুন বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ছয়জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইন করে। পরে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধরা পড়লে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হন। আগস্টে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠায়। এই ছয়জনের মধ্যেই ছিলেন গর্ভবতী সোনালি খাতুন এবং তার ছেলে সাব্বির।
দোসরা ডিসেম্বর মানবিক কারণে তাদের জামিন দেওয়া হয়। এরপর বিজিবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। মহানন্দা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম কিবরিয়া জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সোনালি খাতুন এবং তার সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ অবস্থায় বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি বলেছে, অবৈধ পুশইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড এবং দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা চুক্তির লঙ্ঘন। বাংলাদেশ সরকার এবং বিজিবি মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখতেই পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ পুরো ছয়জনের পরিচয় যাচাই করে দেখেছে তারা সবাই ভারতীয়। সোনালি খাতুন বীরভূম জেলার পাইকর থানার বাসিন্দা। অন্য পরিবারের সদস্যদের বাড়ি বীরভূমের মুরারই থানা এলাকায়। দিল্লি পুলিশ প্রথমে তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করেছিল এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস তাদের বাংলাদেশি বলে রায় দিয়েছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ নথিপত্র সংগ্রহ করে প্রমাণ করে তারা ভারতীয় নাগরিক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সামিরুল ইসলামও এই বিষয়ে পরিবারের পূর্বপুরুষের জমির নথিপত্র সংগ্রহ করেছিলেন।
সব মিলিয়ে, ঘটনাটি দুই দেশের আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করেছে এবং মানবিক প্রেক্ষাপটে এর সমাধান করা হয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি