বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে বিএসপিসির নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার ইনকরপোরেটেড (BSPC)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) ২০২৬ অনুষ্ঠিত…
মেলবোর্ন, ৬ ডিসেম্বর- রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এমন বহু শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ জানিয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বহিষ্কার করা হয়নি তবুও তারা নিরাপত্তাহীনতার কারণে কার্যত শিক্ষাজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।।
একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন (ছদ্মনাম) জানান, আগস্টের পরদিন মাত্র একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি ‘মব হামলার’ শিকার হন।
তার ভাষায়,
“বিভাগকে আগে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা নিরাপত্তা দিতে পারে না বলে জানায়। ক্যাম্পাসে গেলে আমাকে থানায় নেওয়া হয় এবং পরদিন বিএনপি অফিসের একটি বিস্ফোরক মামলায় জেলে পাঠানো হয়।”
সুমাইয়া ২৭ দিন জেল খাটার পর জামিনে মুক্তি পেলেও নিরাপত্তার অভাবে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে পারেননি। ফলে তার শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।
আরেক শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান (ছদ্মনাম) জানান, তার নামে মামলা নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ও কোনো শোকজ দেয়নি। তবুও শিক্ষকরা তাকে ক্লাসে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন।
“স্যাররা বলছেন, এখন ডিপার্টমেন্টে না আসাই ভালো। যদি মব কালচারের শিকার হই, তারা দায় নেবে না। অপেক্ষা করতে করতে দেড় বছর চলে গেছে,” বলেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত জুনে ১২৮ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আরও ৪০৩ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় যেখানে আগের ১২৮ জনও অন্তর্ভুক্ত।
একজন শোকজ পাওয়া শিক্ষার্থী জানান, তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী আন্দোলনে ‘ইট-পাটকেল ও আগ্নেয়াস্ত্র’ ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তার দাবি,
“আমি প্রমাণ চাইতে বলেছি এবং সম্পূর্ণ নিরাপত্তায় ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি চেয়েছি। কিন্তু কোনো জবাব পাইনি।”
শিক্ষার্থীদের অনেকেই বলছেন, কোনো আইনগত বা প্রশাসনিক আদেশ ছাড়াই তারা কার্যত ক্যাম্পাস থেকে বাদ পড়েছেন। কারও নাম মামলায় নেই, কারো বহিষ্কারও হয়নি তবুও কেউ ক্যাম্পাসে গেলে ‘ঝুঁকির’ মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলেন,
“যে শিক্ষার্থী জেলে থাকে, সেও নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারে। কিন্তু এখন অনেককে সেই অধিকার থেকেই বঞ্চিত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।”
তার মতে, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে প্রশাসন বরং সমস্যার সমাধান না করে শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে, যা প্রশাসনিক দুর্বলতার পরিচায়ক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ জানান, বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা নিরাপত্তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই।
তার ভাষায়,
“কেউ পরীক্ষা দিতে চাইলে আমরা চেষ্টা করি। কিন্তু তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শোকজের প্রক্রিয়া ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। এতে জানা যাবে কারা অপরাধী, কারা নয় এবং পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au