স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক…
মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন আরও ৩১ বাংলাদেশি। সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় তাঁরা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। দীর্ঘ প্রায় ৬০ ঘণ্টা তাঁদের হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে আনা হয়। ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁদের শিকল খুলে দেয় এবং ব্র্যাকের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পরিবহন ও জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার মানুষ আছেন। তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর থেকেই কঠোর নিরাপত্তা পাহারায় ছিলেন এবং পুরো যাত্রাজুড়ে হাতকড়া ও শিকল পরানো ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ফিরিয়ে আনা ৩১ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের আবেদন করলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি বলেন, নথিপত্রহীন কাউকে ফেরত পাঠানো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা অমানবিক আচরণ।
তিনি আরও জানান, ব্রাজিলে কাজের সুযোগ দেখিয়ে যেসব এজেন্সি মানুষ পাঠাচ্ছে, তাঁদের অনেককেই পরবর্তীতে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে একেকজনের ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হতে হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছেন। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন এবং ৮ জুন ৪২ জন বাংলাদেশিকে চার্টার্ড ফ্লাইটে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে আরও কয়েক দফায় অন্তত ৩৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের শুরু থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে দেওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা ২২০ ছাড়িয়েছে। মার্কিন অভিবাসন আইন অনুযায়ী, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া অবস্থানকারী অভিবাসীদের আদালত বা প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে আইসিই তাঁদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au