রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, ভাইবোনসহ নিহত ৪
রংপুরের মিঠাপুকুরে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৪ জন আহত…
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদের সঙ্গে সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়া অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে দেশটির তোলেদো প্রদেশের মোরা ও ওরগাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্পেনের রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা এডিআইএফ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানায়নি সংস্থাটি।
স্পেনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভিই জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেন একই রেললাইনে চলছিল। এর মধ্যে একটি ট্রেন অপর ট্রেনটিকে পেছন থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রেনের অন্তত দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা গুরুতরভাবে আহত হন এবং ঘটনাস্থলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজ ও হতাহতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলতে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ও জরুরি সেবাকর্মীরা কাজ করছেন।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় ট্রেনই মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার উদ্দেশে যাচ্ছিল। একই লাইনে চলার সময় কীভাবে ট্রেন দুটি সংঘর্ষে জড়াল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

দুমড়ে-মুছড়ে গিয়েছে দুটি ট্রেন। ছবিঃ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
দুর্ঘটনার পর ওই অঞ্চলে রেল চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রিদের সঙ্গে সিউদাদ রিয়াল ও আন্দালুসিয়ার রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ওই রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কখন এসব রুটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ৫৪ বছর বয়সী যাত্রী জেসুস জেরোনিমো জানান, সংঘর্ষের সময় ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীরা ছিটকে বাইরে পড়ে যান। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারেন।
জেরোনিমো বলেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে আমরা বাইরে বের হই এবং দেখতে পাই, আমাদের ট্রেন একপাশে কাত হয়ে গেছে। সেখানে অনেক আহত মানুষ ছিলেন। অনেকে ভয়ে কাঁপছিলেন।”
দুর্ঘটনার ঘটনায় শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি এ ঘটনায় ‘অবাক’ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতা পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্পেনের রেলপথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ, দুই ট্রেনের গতিবেগ এবং রেললাইনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তের পরই দুর্ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au