এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- জুলাই জাতীয় সনদে নির্বাচনে কমপক্ষে ৫ শতাংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনয়নের অঙ্গীকার করেছিল রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু ঘোষিত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বেশিরভাগ দলই এই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ। বড় দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও জামায়াতের প্রাথমিক তালিকায় নারীর উপস্থিতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। অন্য দলগুলোর অবস্থাও একই রকম।
বিএনপির ঘোষিত ২৭২ প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ১১ জন, যা ঘোষিত আসনের ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনটি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, এখনও কিছু আসন খালি রয়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।
জামায়াত এবার একজনও নারী প্রার্থী দেয়নি, যদিও দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। জুলাই সনদের বাস্তবায়নে সবচেয়ে সরব থাকা দলগুলোর একটি হলেও নারীর মনোনয়ন প্রশ্নে তারা পিছিয়ে। দলটির নেতারা বলছেন, মিত্রদের সঙ্গে আসন সমঝোতা শেষে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে এবং কিছু নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেতে পারেন।
অন্য দলগুলোর পরিস্থিতিও প্রায় একই। এনসিপিতে দেড় হাজার মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ৭৬ জন নারী হলেও প্রথম ধাপের তালিকায় কতজন স্থান পাবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে দলটির নেতারা বলছেন, নারী প্রার্থী উল্লেখযোগ্য হারে থাকবে। এবি পার্টির ঘোষিত ১০৯ প্রার্থীর মধ্যে নারী ৪ জন, জেএসডির ১৭০ জনের তালিকায় নারী ১০ জন। ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও অন্যান্য কয়েকটি দলের তালিকায় কোনো নারী নেই।
জুলাই সনদের আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের জন্য ঘূর্ণায়মান সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব নাকচ করে ৫ শতাংশ নারী মনোনয়নের অঙ্গীকার করেছিল। রাজনৈতিক সংস্কারে ‘জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট’ হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন বিশ্লেষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারে অঙ্গীকার রক্ষার ইতিহাস নেই। নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, যা দলগুলো গ্রহণ করেনি। এখন আবার তারা স্বেচ্ছায় করা প্রতিশ্রুতিও রক্ষা করছে না।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর ভূমিকা সীমিত থেকে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া বলেন, নারী ভোটারের প্রতি দলগুলো নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও নেতৃত্বের জায়গায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যায়।
জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার হলে ভবিষ্যতে নারীর সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। তবে চলতি নির্বাচনের প্রাথমিক চিত্র বলে দিচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সেই প্রতিশ্রুতির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au