স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক…
মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- চার মাসের শান্ত অবস্থা ভেঙে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে ফের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার সংঘাত শুরুর পর দু’দিনে দুই দেশে মোট ৭ জন নিহত হয়েছেন। কম্বোডিয়ার ছয়জন এবং থাইল্যান্ডের এক সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সোমবার রাতে সীমান্ত এলাকায় থাই বাহিনীর ছোড়া গোলায় দুই বেসামরিক নিহত হন। এতে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয়ে। থাইল্যান্ডের এক সেনা সদস্য রোববারের সংঘাতে মারা যান।
বেসামরিক মানুষ লক্ষ্য করে হামলার নিন্দা জানিয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত অভিযোগ করেন থাইল্যান্ড সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের অজুহাতে সাধারণ গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তিনি বলেন এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে থাই নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে ত্রাত প্রদেশের জলসীমায় কম্বোডীয় সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের ধাওয়া দেওয়া হয়। এতে কম্বোডিয়ার বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় কম্বোডিয়া স্থল ও জলসীমায় ভারী অস্ত্র, স্নাইপার মোতায়েন এবং পরিখা খননের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। থাইল্যান্ড এসবকে সরাসরি সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
দুই দেশের উত্তেজনার কেন্দ্র এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল বা পান্না ত্রিভূজ। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমান্ত মিলিত এই এলাকা প্রায় সাড়ে একশ বছর ধরে বিরোধের কেন্দ্র। ১৯০৭ সালে ফরাসি উপনিবেশিক শাসনাধীন কম্বোডিয়ার মানচিত্রে ত্রিভূজটি কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হলে থাইল্যান্ড ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। স্বাধীনতার পরও কম্বোডিয়া অঞ্চলটি ধরে রাখে, ফলে সম্পর্কের দূরত্ব থেকেই যায়।
দীর্ঘ সংঘাতের পর দুই দেশ পনেরো বছর আগে যুদ্ধবিরতিতে যায়। কিন্তু গত বছর মে মাস থেকে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। গত জুলাইয়ে পাঁচ দিনের সংঘাতে দুই দেশের ৪৮ জন প্রাণ হারান এবং তিন লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ।
রোববার নতুন করে সংঘাতের সূত্রপাত হয় থাইল্যান্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। জাতিসংঘে তারা জানায় কম্বোডিয়া সীমান্তের থাই ভূখণ্ডে ব্যাপকভাবে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখছে, যার বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন থাই ও চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন। অভিযোগ জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কম্বোডীয় বাহিনী সি সা কেত প্রদেশে গুলি ছোড়ে। এতে দুই থাই সেনা আহত হন। জবাবে থাই বাহিনী কম্বোডিয়ায় বিমান অভিযান চালায়। এরপর থেকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে নানা সীমান্ত এলাকায়।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই ভূরাজনৈতিক বিরোধ আবারও নতুন সহিংসতার সামনে নিয়ে এসেছে সীমান্তবর্তী জনপদকে। স্থানীয় বাসিন্দারা নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, আর আঞ্চলিক বিশ্লেষকেরা বলছেন উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসলে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au