শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…
মেলবোর্ন, ১৪ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচে শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকার এটিকে বিশ্বে প্রথম এবং যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরলেও প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় অনেক কিশোরই বলছে, বাস্তবে তাদের জীবনে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের দিনও ১৫ বছর বয়সী অ্যামেলি স্ন্যাপচ্যাট, টিকটকসহ সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই ঢুকতে পেরেছে। তার ভাষায়, এত বড় সিদ্ধান্তের পর সে ভেবেছিল অন্তত কিছুটা নাটকীয় পরিবর্তন চোখে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। বয়স যাচাইয়ের নামে যে প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেটিও ছিল সহজ এবং কার্যত বাধাহীন।
জেন জেড ও জেন আলফার মাঝামাঝি প্রজন্মের অনেক কিশোরের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু বিনোদন নয়, বরং বন্ধুত্ব, যোগাযোগ ও দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগের প্রজন্ম যেখানে ফোন কল বা মেসেজে সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে আজকের কিশোররা স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেই সম্পর্ক ধরে রাখে। ফলে হঠাৎ করে এসব প্ল্যাটফর্ম বন্ধ হয়ে যাবে এমন ধারণা অনেকের কাছেই অবাস্তব বলে মনে হয়েছে।
সরকারের দাবি, এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য শিশুদের ক্ষতিকর অ্যালগরিদম ও অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ কিশোরদের উদ্দেশে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়াই তারা খেলাধুলা, বই পড়া বা নতুন কিছু শেখার দিকে ঝুঁকবে। তবে কিশোরদের অভিজ্ঞতা বলছে, এই প্রত্যাশা বাস্তবতার সঙ্গে খুব একটা মেলে না।
ক্যানবেরার ১৫ বছর বয়সী সোফি জানায়, নিষেধাজ্ঞার প্রথম সকালে সে টিকটক খুলেই প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও দেখেছে, যেখানে নতুন নিয়মের কথা বলা হচ্ছিল। তার মতে, এতে বরং বিষয়টি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। সোফি ও তার যমজ বোন অলিভিয়া দুজনেই সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো বাধা ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হয়নি। কারও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে, আবার অনেকেই বহাল তবিয়তে ব্যবহার চালিয়ে গেছে। এতে কিশোরদের মধ্যে নতুন এক সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বাদ পড়লে তারা দ্রুত নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে, শুধু বন্ধুদের কথোপকথন থেকে ছিটকে পড়ার ভয়েই।
সরকার জানিয়েছে, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ম মানতে বাধ্য করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যোগাযোগমন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি টিকটক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান-গ্রান্ট স্বীকার করেছেন, এক রাতেই সব পরিবর্তন সম্ভব নয় এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিশৃঙ্খল দেখাতেই পারে।
অন্যদিকে, কিশোরদের একটি বড় অংশ মনে করে, এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘমেয়াদে বিড়াল-ইঁদুর খেলায় পরিণত হবে। নতুন বা কম পরিচিত প্ল্যাটফর্মে তারা চলে যাবে, যা আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বাবা-মায়ের তথ্য ব্যবহার, ভিপিএন কিংবা ভুয়া বয়স যাচাইয়ের মতো ফাঁকফোকরও ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
স্কুল ছুটির সময়ে যখন স্ক্রিন টাইম সাধারণত বেড়ে যায়, তখন এই নিষেধাজ্ঞা আদৌ আচরণ বদলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। অ্যামেলির মতো অনেক কিশোরই মনে করছে, পরিবর্তন না আসাটাই সবচেয়ে হতাশার বিষয়।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার এই সামাজিক পরীক্ষার শুরু হয়েছে বড় প্রত্যাশা নিয়ে, কিন্তু প্রথম দিনের অভিজ্ঞতাই দেখিয়ে দিয়েছে, শুধু আইন করলেই ডিজিটাল অভ্যাস বদলে ফেলা সহজ নয়। সামনে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au