আদালতে সাংবাদিক আনিস আলমগীর। ছবি-সমকাল
মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ড শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আনিস আলমগীর বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাকে তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, কোনো সুবিধা বা অনুকম্পার বিনিময়ে তিনি নিজের অবস্থান বদলাবেন না।
তার ভাষায়, সাংবাদিক হিসেবে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করাই তার দায়িত্ব এবং তিনি তা আগেও করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন।
এর আগে পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক মুনিরুজ্জামান ওই আবেদন করেন।
বিকেল ৫টার দিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি সাদা গাড়িতে করে আনিস আলমগীরকে আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হাতকড়া, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে তাকে আদালতের পাঁচতলায় তোলা হয়।
কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর সময় তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাকে আবেগাপ্লুত অবস্থায়ও দেখা যায়। তার আইনজীবীরা তাকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, সাংবাদিকতার আড়ালে আনিস আলমগীর রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তার বক্তব্য ও মন্তব্যের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী নাজনীন সুলতানা বলেন, আনিস আলমগীর একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক। তিনি শুধু সাংবাদিক নন, শিক্ষক ও লেখক হিসেবেও পরিচিত। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাভার করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। টকশো বা বক্তব্যে মতপ্রকাশ করা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অংশ বলে উল্লেখ করে তিনি রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করেন।
আদালতের অনুমতি নিয়ে আনিস আলমগীর নিজেও বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, তিনি কখনো ভয় পাননি এবং ভয় পাওয়ার কারণও নেই। বিভিন্ন সরকারের আমলে তিনি প্রশ্ন করেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি প্রশ্ন তোলা অব্যাহত রাখবেন।
তার মতে, প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজে গভীরভাবে ঢুকে পড়েছে, যা চলতে থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
আনিস আলমগীর অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু ব্যক্তি দেশের বাইরে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এবং তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও শুনানি শেষে আদালত আনিস আলমগীরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
এর আগে রোববার রাজধানীর ধানমন্ডির একটি জিম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ হেফাজতে নেয়।
পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এই মামলায় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে উসকানি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।