তাহসিফ সৌরির মৃত্যু: কিছু প্রশ্ন, প্রোপাগান্ডার অভিযোগ এবং বিচারের দাবি
সজীব ওয়াজেদ জয় : রহস্যজনক মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার ওপর নেমে আসা ভয়াবহ…
মেলবোর্ন ১৮ ডিসেম্বর- পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম সচিব মাকসুদা হোসেনকে সরকারি গাড়ির ভেতরে জিম্মি করে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে তারই গাড়িচালক আবদুল আউয়ালের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা তাকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর পরিকল্পনা কমিশনের সামনে এনে চালককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ভুক্তভোগী মাকসুদা হোসেন পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে কর্মরত। তিনি জানান, সকাল আটটার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে শেরেবাংলা নগরে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে এসে চালক গাড়ি কমিশনে না নিয়ে বিজয় সরণির দিকে ঘুরিয়ে দেন। কারণ জানতে চাইলে কোনো জবাব না দিয়ে মহাখালী, বনানী হয়ে বিমানবন্দর সড়কের দিকে গাড়ি চালাতে থাকেন তিনি।
একপর্যায়ে চালকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে যুগ্ম সচিব জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করেন। তখন চালক জোর করে তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেন এবং গাড়ির দরজা লক করে দেন বলে জানান তিনি। এরপর উত্তরার দিয়াবাড়ি, বেড়িবাঁধ হয়ে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত গাড়ি চালানো হয়। পরে আবার দারুস সালামসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুপুর ১২টার দিকে পরিকল্পনা কমিশনের সামনে গাড়ি আসে।
মাকসুদা হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় ধরে কেন তাকে এভাবে ঘোরানো হচ্ছে বা কেন জিম্মি করা হয়েছে, সে বিষয়ে চালক কোনো কথা বলেননি। পরে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে গাড়ি থামিয়ে চালক তার মায়ের চিকিৎসার কথা বলে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা দিতে বলেন। তিনি জানান, তখন তার কাছে টাকা নেই বলে অফিসে গেলে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরই চালক তাকে কমিশনের ভেতরে নিয়ে আসেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আবদুল আউয়ালকে আটক করে।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত চালককে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করতে থাকে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শাকিল আখতার বলেন, চালক মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর নিজ দপ্তরে ফিরে মাকসুদা হোসেন বলেন, চালকের আর্থিক প্রয়োজন থাকলে তিনি চাইতে পারতেন। জিম্মি করে মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে চার ঘণ্টা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ঘোরানোর কোনো কারণ ছিল না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au