‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৮ ডিসেম্বর- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে এক সপ্তাহ আগে পদত্যাগ করলেও এখনো সরকারি বাসভবন ছাড়েননি দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। কবে নাগাদ তাঁরা বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছেও সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কেউ নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বুধবার পর্যন্ত পদত্যাগী এই দুই উপদেষ্টার কেউই সরকারি বাসভবন ত্যাগ করেননি। এ বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগও করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা ফোন ধরেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় উল্লেখ করে পাঠানো ক্ষুদে বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রিসভার সদস্য বা জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর কত দিনের মধ্যে সরকারি বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি বাসভবন, গাড়ি কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসরের পর দুই মাস পর্যন্ত সরকারি বাসভবনে থাকার সুযোগ রয়েছে। সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকলে এই সময়সীমা আরও চার মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এর আগে গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টা তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। সে সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।
পরদিন উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। এরপর সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হলে তাঁদের পদত্যাগপত্র কার্যকর হয়।
আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিন থেকেই উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুরুতে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে গত বছরের নভেম্বরে প্রয়াত এ এফ হাসান আরিফের স্থলে তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ মাস তিনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্যদিকে মাহফুজ আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরে ১০ নভেম্বর তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন, যদিও সে সময় তাঁর হাতে কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে মাহফুজ আলমকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর দায়িত্বকাল ছিল প্রায় ১৩ মাস।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আসিফ মাহমুদ। ঘোষিত তারিখ এক দিন এগিয়ে এনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়, যা সরকারের পতন ত্বরান্বিত করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আসিফ মাহমুদের ভূমিকা সে কারণে বিশেষভাবে আলোচিত।
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রথমবার অংশ নিতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সফরসঙ্গী হিসেবে মাহফুজ আলমকে সঙ্গে নেন। সেখানে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে তাঁকে বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
সূত্রঃ কালেরকণ্ঠ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au