আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৯ ডিসেম্বর- সিডনির বন্ডাই সৈকতে ভয়াবহ বন্দুক হামলার পর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে দেশজুড়ে বন্দুক ‘বাইব্যাক’ বা পুনঃক্রয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার গণহত্যার পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় বন্দুক পুনঃক্রয় উদ্যোগ বলে জানিয়েছে বিবিসি।
রোববার অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সমুদ্রসৈকত বন্ডাইয়ে একটি ইহুদি উৎসব চলাকালে দুই বন্দুকধারী গুলি চালায়। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হন এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হন। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা ইসলামিক স্টেট মতাদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ‘সন্ত্রাসী হামলা’ একজন বাবা ও ছেলের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি হত্যা এবং একটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। হামলার সময় তার বাবা সাজিদ নিহত হন। পুলিশ আরও জানায়, নাভিদ আকরামের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল এবং তিনি সিডনির শহরতলিতে বসবাস করলেও তার কাছে ছয়টি বন্দুক ছিল।
গুলিবর্ষণের পরদিনই জাতীয় মন্ত্রিসভায় ফেডারেল সরকার এবং সব রাজ্য ও অঞ্চলের নেতারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ শুক্রবার বলেন, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৪০ লাখের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, যা পোর্ট আর্থার গণহত্যার সময়কার সংখ্যার চেয়েও বেশি।
তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তির কাছে এতগুলো বন্দুক থাকা অযৌক্তিক। তার ভাষায়, “আমরা জানি, এই সন্ত্রাসীদের একজনের কাছে বৈধ লাইসেন্স ছিল এবং তার কাছে ছয়টি বন্দুক ছিল। কারও এতগুলো বন্দুকের প্রয়োজন নেই।”
অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট বলেন, বন্দুকের সংখ্যা কমাতে হলে পুনঃক্রয় কর্মসূচি অবশ্যই সমাধানের অংশ হতে হবে। তার মতে, অবৈধ ও অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে নেওয়া ছাড়া সহিংসতা কমানো সম্ভব নয়।
বিবিসি জানিয়েছে, নতুন এই কর্মসূচির আওতায় অতিরিক্ত, সদ্য নিষিদ্ধ এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সরকার কিনে নেবে। এর অর্থায়ন রাজ্য ও অঞ্চলগুলো সমানভাবে বহন করবে। সরকারের লক্ষ্য কয়েক লাখ আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
জাতীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি আগ্নেয়াস্ত্র রাখতে পারবেন তার সীমা নির্ধারণ করা হবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স সীমিত করা হবে। কোন ধরনের বন্দুক বৈধ হবে, সে বিষয়েও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেতে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিবন্ধন ব্যবস্থাকে দ্রুততর করা হবে এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রকদের অপরাধ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
এর মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, চরমপন্থি মতাদর্শের অভিযোগে আটক সাতজনকে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে এই দলের কোনো নিশ্চিত যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, যদিও বন্ডাই সৈকতে ওই দলটির পরিদর্শনের পরিকল্পনা ছিল।
বন্ডাই সৈকতের হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় নিরাপত্তা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার বলছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au