পাবনায় বজ্রপাতে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু
পাবনার সদর উপজেলায় বজ্রপাতে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের সোনাপাতির বিলে এ…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা ও আইনহীন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কংগ্রেস সাংসদ এবং সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান শশী থারুর। তাঁর মতে, দেশে উচ্ছৃঙ্খল শক্তি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু নিন্দা বা দুঃখ প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁকে কঠোর ও দৃশ্যমান সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, সম্প্রতি একটি মিথ্যা অভিযোগের জেরে এক দরিদ্র হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও দৃঢ়ভাবে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সরকারও ঢাকাকে একই ধরনের বার্তা দিচ্ছে।
গত শুক্রবার বাংলাদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে যুব নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর। সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর। এ ঘটনার পর দেশজুড়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং একাধিক গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সহিংসতায় এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শশী থারুর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে শুধু একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন দমন করে রাখা বহু আইনহীন গোষ্ঠীর মাথাচাড়া দেওয়াও দায়ী। তাঁর ভাষায়, শেখ হাসিনার শাসনামলে যেসব শক্তি নিয়ন্ত্রণে ছিল, ছাত্র আন্দোলনের পর তারা আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে জামায়াতসহ ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়ার বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।
তিনি মনে করেন, এখন বাংলাদেশে কার্যত জনতার শাসনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যেখানে রাস্তাই সরকারকে চালাচ্ছে বা সরকারকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে শুধু নিন্দা ও শান্ত থাকার আহ্বান থাকায় এটিকে অসহায় দর্শকের ভূমিকার সঙ্গে তুলনা করেন থারুর। তাঁর মতে, শুধু বক্তব্য নয়, প্রয়োজন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রয়োজনে শক্ত হাতে আইন প্রয়োগ।
৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন থারুর। তিনি জানান, ভারতের সংসদের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী কমিটি বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে, যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করা শক্তিগুলোর পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে আইনহীনতা অব্যাহত থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন থারুর। তাঁর মতে, ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে ব্যবহার করে সহিংসতা চালানো অসহিষ্ণুতার ভয়াবহ রূপ, যা যদি কঠোরভাবে দমন না করা হয়, তবে তা আরও বাড়বে।
ভারতের করণীয় প্রসঙ্গে থারুর বলেন, ভারত কোনোভাবেই প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তবে ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে ঢাকাকে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর দাবির প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি ভারত সরকার আইনগত ও কূটনৈতিক সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পর্যালোচনা করছে। বিদ্যমান চুক্তি, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সবই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কী সিদ্ধান্ত হবে বা কবে হবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au