মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা ও নৈরাজ্যময় পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির অভিযোগ, সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
রোববার (২১ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।
বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতা হত্যা, দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও স্থাপনায় আগুন দেওয়া, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা ও পুড়িয়ে আনন্দ করার মতো অমানবিক ঘটনা, শিশু হত্যা, গুপ্ত খুন, নারীদের ওপর সহিংসতা, ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচার এবং সাইবার বুলিং ক্রমেই বাড়ছে।
মহিলা পরিষদ মনে করছে, এসব ঘটনায় দেশজুড়ে এক ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে। বিশেষ করে নারীরা এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটি এসব সহিংস ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার, প্রশাসন ও সব রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, নারী-পুরুষের সমতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মহিলা পরিষদের মতে, এই সংকটময় সময়ে জাতীয় ঐক্য ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে দেশকে নৈরাজ্য থেকে বের করে আনতে।