মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর-চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ঘন কুয়াশার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ।
নৌ-পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিণা এলাকায় মেঘনা নদীতে জাকির সম্রাট–৩ ও অ্যাডভেঞ্চার–৯ নামে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়। পরে আরও ৬ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
নিহত ও আহতদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সদরঘাট নৌ থানার ইনচার্য সোহাগ রানা সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জনের লাশ পাওয়া গেছে। আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, রাতের ঘন কুয়াশার কারণে নদীতে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় লঞ্চ দুটি একে অপরকে সময়মতো শনাক্ত করতে পারেনি। এর ফলেই সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
লঞ্চ ও বাল্কহেড সংঘর্ষ
একই রাতে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান–৫ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ নদীতে নোঙর করে রাখা একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। লঞ্চটিতে সহস্রাধিক যাত্রী থাকলেও এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রীরা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি নদীর তীর ঘেঁষে ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। আতঙ্কে যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নেমে নদীর তীরবর্তী এলাকায় আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের নিরাপদে তীরে নামান। নৌ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আবুল কালাম জানান, পরে বিকল্প লঞ্চ, স্পিডবোট ও সড়কপথ ব্যবহার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইমাম হাসান–৫ লঞ্চের ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।