চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার যে তিনটি আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে, সেই সব আসনেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে দলটি। বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনের জন্য খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো আজ সোমবার জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য জটিলতা বিবেচনায় রেখে এসব আসনে দলের পক্ষ থেকে বিকল্প প্রার্থীদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল নেতারা।
দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি একটি সংকটময় সময় পার করছেন। এ বাস্তবতায় নির্বাচন করতে না পারলে যাতে দল সাংগঠনিকভাবে বিপাকে না পড়ে, সে জন্য আগেভাগেই বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেবেন ওই আসনের নির্বাচন সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে অক্ষম হলে তিনি বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন। একইভাবে বগুড়া-৭ গাবতলী আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম এবং দিনাজপুর-৩ সদর আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। দলীয় চূড়ান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে তারাও প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ইতোমধ্যে অন্তত ১৫টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে। মাঠপর্যায়ের জরিপ, দলের ভেতরের অসন্তোষ এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় এনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। দলটির লক্ষ্য একটাই, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা। আজ সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন হওয়ায় শেষ মুহূর্তে এসব রদবদল চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ সদর আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ গুলশান বনানী ক্যান্টনমেন্ট আসন থেকেও নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গতকাল রোববার ঢাকা-১৭ আসনের জন্য দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামকে প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক করা হয়েছে। এর আগে এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ প্রচার শুরু করেছিলেন। পরে সিদ্ধান্ত বদলে তিনি ভোলা সদর আসনে প্রার্থী হচ্ছেন।
ঢাকা-১২ তেজগাঁও হাতিরঝিল শেরেবাংলা নগর আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাইফুল আলম নীরবের নাম ঘোষণা করা হলেও পরে আসনটি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি কোদাল প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলাতেও প্রার্থী পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাউজানে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয়। একই সঙ্গে গোলাম আকবর খন্দকারের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ সাতকানিয়া আসনটি শুরুতে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুকের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছিল। পরে এলডিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় আসনটিতে বিএনপি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করেছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী সালাহউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম-১১ বন্দর পতেঙ্গা আসন থেকে সরিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ ডবলমুরিং পাহাড়তলী হালিশহর ও খুলশী আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমানকে।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আখাউড়া কসবা, মুন্সিগঞ্জ-২ টঙ্গিবাড়ী লৌহজং এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ সদর গজারিয়া আসনেও প্রার্থী বদল হয়েছে। যশোরের তিনটি আসন, মাদারীপুর-১ শিবচর এবং নড়াইল-২ আসনেও নতুন করে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের পেছনে দলীয় ভারসাম্য, জোট সমঝোতা এবং স্থানীয় বাস্তবতা কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাঁর জানা মতে ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত হয়েছে। তবে প্রতিদিন এক বা দুইজন করে মনোনয়ন দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তন হওয়া নতুন কিছু নয়, সব নির্বাচনেই নানা কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি প্রাথমিকভাবে ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। পরে মিত্র ও শরিকদের জন্য আরও ১৫টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট আসনগুলোতেও মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও সেগুলোর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au