ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজর রাখছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি নতুন উগ্রপন্থী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা চলছে, যার নাম হতে পারে ন্যাশনাল আর্মড রিজার্ভ (এনএআর)। এই বাহিনীতে আট হাজারের বেশি উগ্রপন্থী তরুণকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং লক্ষ্য হবে শরিয়াহ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করে দেশ পরিচালনা করা।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মতে, এনএআরকে ভবিষ্যতে পুলিশের বিকল্প হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এই বাহিনীর হাতে থাকে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশে একটি উগ্র সামরিক ও পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে পাকিস্তানপন্থী ও চরমপন্থী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পাকিস্তান ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আজমিকে সামনে আনতে চাইছে বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রয়াত আমির গোলাম আজমের পুত্র এবং তাকে একজন উচ্চমাত্রার উগ্রপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আজমি সম্প্রতি পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং বাংলাদেশে নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
আইএএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি কূটনীতিক ঢাকায় সক্রিয় হয়েছেন এবং তারা নিয়মিত বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এই যোগাযোগের অন্যতম মূল ব্যক্তি হিসেবে আজমির নাম উঠে এসেছে। ঢাকার বনানী অফিসার্স হাউজিং স্কিমে থাকা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের সঙ্গে তার একাধিক বৈঠকের তথ্য মিলেছে। ২৩ ডিসেম্বর পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিমের সঙ্গে আজমির একটি বৈঠক ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে।
গোয়েন্দা মহলের মতে, এই তৎপরতাগুলো ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাকিস্তানের লক্ষ্য হতে পারে বাংলাদেশকে এমনভাবে পরিচালনা করা, যেখানে নামমাত্র নির্বাচিত সরকার থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা থাকবে সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী বাহিনীর হাতে। এতে আন্তর্জাতিক চাপ এড়াতে নির্বাচন হলেও বাস্তবে দেশ পরিচালিত হবে পাকিস্তানি কায়দায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইএসআই সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীসহ কিছু গোষ্ঠী এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করছে, যাতে বাংলাদেশকে একটি চরমপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত করা যায়। এনএআর শরিয়াহ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করবে, আর পাকিস্তানপন্থী কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দেশের নিয়ন্ত্রণ রাখবে।
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, আগামী দিনে বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। আইএসআই ভুয়া বয়ান ছড়িয়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভেতর থেকে প্রভাবিত করে দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে তাদের দাবি।
সূত্র: indianews.com.au
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au