পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়ার খবর নাকচ করলো ফিফা
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়ে…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যেই জি এম কাদের ও ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন দুই জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাই লাঙল প্রতীক চেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উভয় পক্ষই নিজেদের প্রকৃত জাতীয় পার্টি দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে একই প্রতীকের আবেদন করেছে।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দল হিসেবে জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা সরাসরি লাঙল প্রতীক চেয়েছেন। অন্যদিকে, হাইকোর্টে চলমান মামলার নথি সংযুক্ত করে ব্যারিস্টার আনিসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও লাঙল প্রতীকের দাবিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
জি এম কাদেরের জাপা ২৫১টি আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, সে তথ্য সোমবার রাত পর্যন্ত জানাতে পারেনি দলটি। ব্যারিস্টার আনিসের জাপাও একই অবস্থায় রয়েছে। দলটি দাবি করেছে, তারা ৮১টি আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিল।
সোমবার জি এম কাদের নিজে, দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা মনোনয়নপত্র জমা দেন। ব্যারিস্টার আনিসও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে তার দলের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। তারা মনোনয়নপত্র কিনলেও জমা দেননি। হাওলাদার জানান, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
নিয়ম অনুযায়ী, দলীয় প্রার্থী হতে হলে নিবন্ধিত দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যয়নপত্র মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। এই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দ দেয়। ১৯৮৬ সাল থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা লাঙল প্রতীকে নির্বাচন করে আসছেন। দলটি একাধিকবার বিভক্ত হলেও এতদিন প্রতীকটি হাতছাড়া হয়নি। তবে ভিন্ন ভিন্ন বিভক্ত ধারার দলগুলো ভিন্ন প্রতীকে নির্বাচন করেছে। যেমন জাতীয় পার্টি জেপি বাইসাইকেল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি গরুর গাড়ি এবং জাতীয় পার্টি মতিন অংশ কাঁঠাল প্রতীক ব্যবহার করেছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে গত চার নির্বাচনে সমঝোতা করে অংশ নেওয়ার কারণে জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সমালোচনার মুখে রয়েছে। গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে দলটি সংসদের প্রধান বিরোধী দল হলেও, গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেলে জি এম কাদেরের জাপা চাপে পড়ে। দলটির কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের আপত্তিতে সরকারিভাবে জাপাকে বিভিন্ন আলোচনায় ডাকা হয়নি।
নেতৃত্ব বিরোধের জেরে গত আগস্টে জাতীয় পার্টি ষষ্ঠবারের মতো বিভক্ত হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও সর্বশেষ সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বে ৯ আগস্ট ‘জাতীয় পার্টি’ নামে নতুন একটি দল আত্মপ্রকাশ করে। দুই পক্ষই নিজেদের মূলধারা হিসেবে দাবি করছে।
ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম বলেন, গত মে মাসে দলের প্রেসিডিয়ামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাউন্সিলর সম্মেলন ডাকা হয় এবং সেই সম্মেলনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার দাবি, তার নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিই লাঙল প্রতীকের বৈধ মালিক।
অন্যদিকে, জি এম কাদের অংশের প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কাউন্সিল আহ্বান করা হলেও তা পরে স্থগিত করা হয়। তাই যে কাউন্সিলের ভিত্তিতে লাঙল দাবি করা হচ্ছে, তা অবৈধ। তার দাবি, জি এম কাদেরের জাতীয় পার্টিই বৈধ দল এবং লাঙল প্রতীকের মালিক।
লাঙল প্রতীকের মালিকানা নিয়ে বর্তমানে হাইকোর্টে মামলা চলমান। ব্যারিস্টার আনিসের জাপার নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, কাউন্সিল স্থগিত করার এখতিয়ার কারও নেই। এ কারণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে এবং আদালত রুল জারি করেছেন। এই নথি সংযুক্ত করেই তাদের প্রার্থীরা লাঙল প্রতীক চেয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে। লাঙল প্রতীক নিয়ে মামলার শুনানি হতে পারে আগামী ৮ জানুয়ারি। মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যদি তাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে। সেখানেও সমাধান না হলে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানান তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au