শাহজালাল বিমানবন্দরে আগুন, আতঙ্কে বিদেশগামী যাত্রীরা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক : রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর)…
মেলবোর্ন, ১ জানুয়ারী- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর শুধু ব্যক্তিগত আলাপচারিতার জায়গা নয়। ব্যক্তিগত ছবি, বার্তা, গুরুত্বপূর্ণ নথি, পেশাগত যোগাযোগ এমনকি আর্থিক তথ্যও অনেক সময় এসব প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ও উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকলে হ্যাকিং, পরিচয় জালিয়াতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়। সে কারণে জীবিত অবস্থায়ই অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া অথবা মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে কোনো একক নিয়ম নেই। বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট মেমোরিয়ালাইজড, নিষ্ক্রিয় কিংবা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার সুযোগ দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার স্বজনেরা মৃত্যুসনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের জন্য ‘মেমোরিয়ালাইজেশন’ সুবিধা চালু রয়েছে। জীবিত অবস্থাতেই ব্যবহারকারী নির্ধারণ করে দিতে পারেন, তাঁর মৃত্যুর পর প্রোফাইল কে দেখভাল করবেন।
এই সুবিধা চালু করতে হলে ফেসবুকের সেটিংসে গিয়ে জেনারেল প্রোফাইল সেটিংসের নিচে থাকা মেমোরিয়ালাইজেশন অপশনে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে ‘চুজ আ ফ্রেন্ড’ অপশনের মাধ্যমে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে মনোনীত করা যায়। ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর প্রোফাইলটি মেমোরিয়ালাইজড হলে ওই ব্যক্তির কাছে নোটিশ পাঠানো হয়।
এ ছাড়া কোনো ব্যবহারকারীর মৃত্যুর তথ্য স্বজনেরা মৃত্যুসনদসহ জমা দিলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি মেমোরিয়ালাইজড অথবা সম্পূর্ণভাবে ডিলিট করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এক্সে অ্যাকাউন্ট মেমোরিয়ালাইজড করার সুযোগ নেই। তবে মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য বা আইনগত প্রতিনিধিরা চাইলে অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার অনুরোধ জানাতে পারেন। এ জন্য মৃত ব্যক্তির তথ্য, অনুরোধকারীর পরিচয়পত্র এবং মৃত্যুসনদ জমা দিতে হয়। যাচাই শেষে এক্স কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেয়।
গুগল জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা জিমেইলসহ গুগল অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কোনো ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পরপরই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে চাইলে স্বজনেরা গুগলের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র জমা দিতে পারেন।
ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্ট মেমোরিয়ালাইজড অথবা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ইনস্টাগ্রামের নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে মৃত্যুসনদসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হয়। অনুরোধ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টটি স্মৃতির জন্য সংরক্ষণ বা ডিলিট করে দেয়।
ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত পরিচয়ের বড় অংশ এখন অনলাইনে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিলে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকে, অন্যদিকে পরিবার ও স্বজনদের জন্য মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক ঝামেলাও কমে। তাই জীবিত অবস্থাতেই ডিজিটাল সম্পদের পরিকল্পনা করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: ডেইলি মেইল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au