বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই সাত জেলায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জামালপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর…
মেলবোর্ন, ২ জানুয়ারি- মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। যেসব আসন চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জামায়াত, সেখানেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একইভাবে ইসলামী আন্দোলনও যেসব আসন জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিল, সেখানেও হাতপাখার প্রার্থী রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের তালিকা ও দলীয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এবারের নির্বাচনে জামায়াত ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি ও বিডিপির জন্য জামায়াত ২৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি। ইসলামী আন্দোলনের জন্য কোনো আসন খালি রাখা হয়নি। জামায়াত জানিয়েছে, তারা অন্তত ৭৫টি আসনে নির্বাচন করতে চায়। বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের দাবি, জামায়াতকে ছাড় দিতে হবে আরও বেশি আসনে। নতুন দল এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসন ছেড়ে দেওয়ায় চরমোনাইপন্থিরা ক্ষুব্ধ বলেও জানা গেছে।
জামায়াত সূত্র বলছে, রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের একটিও ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত এনসিপির জন্য দুটি আসনে প্রার্থী দেয়নি দলটি। এর মধ্যে রয়েছে রংপুর-৪ ও কুড়িগ্রাম-২। তবে এই দুই আসনেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে পঞ্চগড়-১, কুমিল্লা-৪, ঢাকা-১৮ ও ঢাকা-৮ আসনেও। জামায়াত প্রার্থী না দিলেও সেখানে হাতপাখার প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
অন্যদিকে চরমোনাই পীরের ভাই ও ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই দুটি আসনেই জামায়াত প্রার্থী রেখেছে। একইভাবে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমদ শেখ ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আসনেও জামায়াতের প্রার্থী রয়েছে, যদিও কয়েকটি আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।
উল্টো চিত্রও আছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশ আসনেই ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ এবং নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান রাজশাহী-১ আসনে প্রার্থী হলেও সেখানে হাতপাখার প্রার্থী রাখা হয়নি। তবে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলামসহ অন্য শীর্ষ নেতাদের আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী রয়েছেন।
আসন বণ্টন নিয়ে দলগুলোর হিসাবও ভিন্ন। জামায়াতের দাবি, ২৪৮টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭১টি নিজেরা রাখবে, ৭৭টি শরিকদের ছাড়বে। বাকি ৫২টি আসনে জরিপের মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই প্রস্তাব মানেনি।
দুই দলের নেতাদের বক্তব্যেও মতভেদ স্পষ্ট। জামায়াতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, জোট ভেঙে গেলে দায় জামায়াত নেবে না। ইসলামী আন্দোলনের দাবি বাস্তবসম্মত নয়। বিপরীতে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, জামায়াত বড় শক্তি ভাবলেও বাস্তবতা ভিন্ন। প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পেলে তারা জোটে থাকবে না।
তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউই জোট ভাঙনের কথা মানতে নারাজ। জামায়াতের আসন সমঝোতা সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, ২০ জানুয়ারির আগেই সব সমস্যার সমাধান হবে এবং ৩০০ আসনে জোটের একক প্রার্থী থাকবে। ইসলামী আন্দোলনের নেতা সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমও বলেছেন, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং শিগগিরই সমাধান আসবে।
তবে মাঠের বাস্তবতায় মনোনয়ন তালিকা বলছে ভিন্ন কথা। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমার আগে সমঝোতা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au