চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩ জানুয়ারি- সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোয় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে পাড়ি জমিয়েছেন সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী। যা এক বছরে কোনো একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী পাঠানোর রেকর্ড। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এ তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে এ নিয়ে কথা বলেন বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন।
তিনি বলেন, গত বছরে ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী সৌদি আরবে গেছেন। এক বছরের মধ্যে কোনো একটি দেশে এতো বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।
বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কর্মী সৌদি আরবকে গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি বসবাস ও কাজ করছেন। ১৯৭০-এর দশক থেকে বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশটির শ্রমবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন এবং বর্তমানে তারাই সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় প্রবাসী জনগোষ্ঠী। এসব কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স বছরে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার কর্মী সৌদি আরবে গিয়েছিলেন, যা থেকে বছরভিত্তিক উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির চিত্র স্পষ্ট হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে সৌদি আরবের ‘স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম’ চালু হওয়ার পর থেকে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের শ্রম রপ্তানির মান উন্নত হয়েছে এবং সৌদি শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান যোগ্যতা বেড়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত নতুন শ্রম চুক্তি কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করেছে। এ চুক্তির মাধ্যমে সময়মতো মজুরি প্রদান, কল্যাণ, এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায়, বিশেষ করে নির্মাণ খাতে, ২০২৬ সালে প্রায় ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে, যেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের বড় ভূমিকা থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই রেকর্ডসংখ্যক কর্মী পাঠানো আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে, বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে আরো দৃঢ় করেছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করতে ঢাকা ও রিয়াদের চলমান সহযোগিতার প্রতিফলন হিসেবেও এটিকে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au