মেলবোর্ন, ৪ জানুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বা আপত্তি রয়েছে, তারা আগামী ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করতে পারবেন। এ লক্ষ্যে আপিল সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার ইসির পক্ষ থেকে পাঠানো ওই চিঠিতে জানানো হয়, প্রার্থিতা ফিরে পেতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম ও ফরম্যাট মেনে আপিল আবেদন দাখিল করতে হবে। আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে করতে হবে এবং নির্ধারিত ফরম্যাট ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আপিল দায়েরের সময় মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি আপিলের কারণসংবলিত বিস্তারিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ সংক্রান্ত আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। আপিল আবেদনের একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে।
ইসি জানিয়েছে, আপিল আবেদন সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আপিল গ্রহণ-সংক্রান্ত কেন্দ্রে জমা দিতে হবে। এ জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ১০টি অঞ্চলের জন্য আলাদা ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিজ অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে আবেদন জমা দিতে হবে।
আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। রায়ের কপি পেতে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। এই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনের আপিল গ্রহণ কেন্দ্রের বুথগুলো থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আপিলকারী নিজে অথবা তার পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
ইসি আরও জানিয়েছে, অঞ্চলভিত্তিক বুথগুলোতে সংশ্লিষ্ট জেলার আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের আওতাভুক্ত জেলাগুলোর তালিকাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তাদের জন্য এই আপিল প্রক্রিয়াই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার শেষ সুযোগ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে বা নির্দেশনা না মেনে করা কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না।