নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিক হামলার মধ্যে এবার যশোরে মোটরসাইকেল থেকে মাথায় গুলি করে এক হিন্দু যুবককে হত্যার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৪৩)।
গত ৩১ ডিসেম্বর শরীয়তপুরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। যা ছিল এক মাসের ব্যবধানে তৃতীয় ঘটনা। তার আগে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক গার্মেন্টস কর্মীকে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আরেকটি ঘটনা ঘটে রাজবাড়ীর পাংশায়। সেখানে এক হিন্দু যুবককে কথিত ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ এনে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত হঠাৎ করে রানার মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। এলাকাবাসী ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির আঞ্চলিক নেতা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ আরেকটি চরমপন্থি সংগঠনের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সভাপতি আকতার ফারুক মিন্টু বলেন, কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপ বৈরাগীর একটি বরফকল রয়েছে। সন্ধ্যায় বরফকল এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি জানান, রানা প্রতাপ বর্তমানে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অতীতে চরমপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এমদাদুল হক ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তদন্ত না করে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
গত শনিবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন (৫৫) নামে বিএনপির এক নেতা নিহত হন। তিনি শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ মহল্লার বাসিন্দা এবং বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি ‘গ্রিন ল্যান্ড রিয়েল এস্টেট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন।
পরপর দুটি গুলির ঘটনায় যশোরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে অভিযান চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au