আদালতে নেওয়ার আগে হেলিপোর্টে হাতকড়া পরানো অবস্থায় নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস (ডানে)। ছবি: GC Images
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস নিউইয়র্কের একটি আদালতে প্রথমবারের মতো হাজির হয়ে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার এই শুনানি ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে (অস্ট্রেলীয় পূর্বাঞ্চলীয় সময়) মাদুরোকে পায়ে শিকল পরানো অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়। বিচারকের সামনে তিনি বলেন,
“আমি নির্দোষ। আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমি একজন সৎ মানুষ।”
তিনি আরও বলেন,
“আমি ভেনেজুয়েলা প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট। আমাকে এখানে অপহরণ করে আনা হয়েছে…”,
এ সময় জেলা বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন তাঁকে থামিয়ে দেন।
আদালত কক্ষ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি মার্শালদের দিকে তাকিয়ে মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় বলেন,
“আমি একজন অপহৃত প্রেসিডেন্ট। আমি একজন যুদ্ধবন্দি।”
ফ্লোরেসের বক্তব্য
মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তাঁর আইনজীবী আদালতকে জানান, ভেনেজুয়েলায় আটকের সময় তিনি আহত হন এবং তাঁর পাঁজরের হাড়ে চিড় ধরার আশঙ্কায় চিকিৎসা প্রয়োজন।
আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত
মাদুরোর আদালত নিযুক্ত আইনজীবী বলেন,
“তাঁকে যেভাবে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ধরে আনা হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।”
তিনি জানান, এসব বিষয় নিয়ে বিপুল পরিমাণ আইনি নথি আদালতে দাখিল করা হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে ১৭ মার্চ।
নাটকীয়ভাবে আটক
গত শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর এক দুঃসাহসী অভিযানে মাদুরো ও ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলা থেকে ধরে এনে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। এই অভিযানের প্রস্তুতি কয়েক মাস ধরে চলছিল বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, কলম্বিয়া ও গ্রিনল্যান্ডের মতো দেশেও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং মেক্সিকোকে তাদের “অবস্থা ঠিক করার” হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জাতিসংঘের উদ্বেগ
জাতিসংঘ এই অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের শাসন যথাযথভাবে মানেনি এবং এই ঘটনা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে বলে তারা উদ্বিগ্ন।
মাদুরোর বিচার ও এই ঘটনার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।