চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও উচ্চ আদালতের আদেশের কারণে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বৈধতা পাওয়া এই প্রার্থীদের মধ্যে অর্ধেকের কাছাকাছি, অর্থাৎ ১৫ জনই বিএনপির মনোনীত। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ১১ জন। বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো বা সিআইবির প্রতিবেদনে এই ৩১ জন প্রার্থীকেেমখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তারা খেলাপির তালিকায় ছিলেন। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ বিবেচনায় নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের প্রার্থিতা বহাল রাখেন।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে মোট দুই হাজার ৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। বাছাই প্রক্রিয়ায় শুধু ঋণখেলাপির কারণেই ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৮ জন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, তিনজন বিএনপির এবং দুজন জামায়াত মনোনীত। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরাও রয়েছেন। সিআইবির তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে। সব মিলিয়ে অন্যান্য কারণসহ মোট ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের ৬৯টি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই ও বাছাই করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় এক হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংশোধিত আরপিওতে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কোনো সংসদ সদস্যের ঋণখেলাপির বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি তার পদ হারাতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে যেসব প্রার্থী টিকে গেছেন, তাদের মধ্যে বিএনপির ১৫ জন রয়েছেন। তারা হলেন বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, টাঙ্গাইল-৪ মো. লুৎফর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, গাজীপুর-৪ শাহ রিয়াজুল হান্নান, মৌলভীবাজার-৪ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-৯ মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-২ সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিলেট-১ আসনের খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এ তালিকায় বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসন থেকে নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নাও রয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পাওয়া ১১ জন হলেন যশোর-৫ মো. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১০ মো. মুশফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এসএকে একরামুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন, কুমিল্লা-৯ ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, চাঁদপুর-২ তানভীর হুদা, চট্টগ্রাম-৫ এসএম ফজলুল হক, নোয়াখালী-২ কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, সিলেট-৩ মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী এবং সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ।
এ ছাড়া মানিকগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির এসএম আব্দুল মান্নান, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবুর রহমান শামীম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোহাম্মদ আলী আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ধরে রাখতে পেরেছেন।
অন্যদিকে ঋণখেলাপির কারণে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাদের মধ্যে বিভিন্ন দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী রয়েছেন। জাতীয় পার্টির ১০ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন, গণঅধিকার পরিষদের ছয়জন, জেএসডির তিনজন, এলডিপির তিনজন, কমিউনিস্ট পার্টির দুইজন এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির দুইজন প্রার্থী রয়েছেন এই তালিকায়। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দলের একজন করে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
বিএনপির যেসব আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, সেখানে দলটির বিকল্প প্রার্থী মনোনয়ন টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও জোটগতভাবে বিকল্প প্রার্থী রয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ২৮ জন ঋণখেলাপির কারণে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গেছেন।
সব মিলিয়ে ঋণখেলাপির বিষয়টি এবারের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের স্থগিতাদেশে কিছু প্রার্থী টিকে গেলেও নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান এবং সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী ভবিষ্যতে তাদের ভাগ্য কী হয়, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নজরদারি চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au