জানাজার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাফন করা হলো হাদিকে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- সাবেক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর পরিকল্পনাতেই ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, “ওসমান বিন হাদি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
ডিবি কর্মকর্তার মতে, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভিন্নধর্মী ধারার কারণে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ ও সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পির নির্দেশনায় হত্যার শিকার হন। হত্যার সময় গুলিবর্ষণকারীদের মধ্যে ছিলেন ফয়সাল করিম, যিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, এবং তার সহযোগী আলমগীর, আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। তবে এই তিনজনই এখনও গ্রেপ্তার হয়নি; ডিবি জানায় তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। এছাড়া ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি এবং ফিলিপ নামে আরও একজন পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ থাকবে।
হত্যার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। তিনি সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত বক্তব্য দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ সংক্রান্ত সমালোচনামূলক মন্তব্য করতেন। এই কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।
ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে শরীফ ওসমান বিন হাদি গণসংযোগও করছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলি লেগে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।