চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হলেও এখনো চূড়ান্ত হয়নি আসন সমঝোতা। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জোটের ভেতরে চাপ, অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের তপশিল অনুযায়ী আগামী ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ রয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যেই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হলে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা দেখছেন জোটসংশ্লিষ্ট নেতারা।
তবে জোটের শীর্ষ নেতাদের দাবি, আলোচনার পরিবেশ এখনো ইতিবাচক। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দু-এক দিনের মধ্যেই ৩০০ আসনের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
গত রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) জোটে ছিল। পরে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হওয়ায় জোটটি কার্যত ১১ দলীয় রূপ নেয়।
জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সর্বশেষ আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী শরিকদের জন্য প্রায় ১১০টি আসন ছাড় দেওয়ার চিন্তা করছে। প্রস্তাবিত হিসাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ৩৫ থেকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১০টি, এবি পার্টিকে ৩টি, এলডিপিকে ৩টি, বিডিপিকে ২টি, জাগপাকে ৩টি, খেলাফত আন্দোলনকে ৪টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টিকে ২টি আসনের কথা আলোচনায় রয়েছে। তবে এগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়।
জোটভুক্ত দলগুলোর পক্ষ থেকে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৬০০টির বেশি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দরকষাকষির সুযোগ ধরে রাখতেই দলগুলো অতিরিক্ত প্রার্থী রেখেছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনসিপিকে ঘিরে। কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী এনসিপিকে ১০টির বেশি আসন ছাড়ছে না এমন খবর প্রকাশ হলে তা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। তবে এনসিপির নেতারা এই তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
এনসিপির একাধিক নেতা জানান, দলটির জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ২৫টি আসন অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি আরও আসন নিয়ে আলোচনা চলছে, যাতে ৩৫ থেকে ৪০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকবে কি না, তার ওপর চূড়ান্ত আসনসংখ্যা নির্ভর করছে। ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকলে এনসিপি প্রায় ৪০টি আসনে নির্বাচন করবে, আর থাকলে সংখ্যা ৩০টির কাছাকাছি হতে পারে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ১০টির কম আসন পাওয়ার খবর সঠিক নয়। তারা ৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এবং প্রায় সবগুলোই বৈধ হয়েছে। তার মতে, এনসিপি ৩০ থেকে ৩৫ আসনের কম পাবে না। একই কথা জানিয়েছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, আসন সমঝোতার আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪, সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮, আব্দুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬, আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২ এবং আব্দুল্লাহ আল-আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচন করছেন বলে প্রায় নিশ্চিত। এসব আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা এনসিপিকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। এর বাইরে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকটি আসনে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সেগুলো এখনো আলোচনাধীন।
অন্যদিকে, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে পুরোপুরি দূরত্ব কাটেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। জোট নেতাদের দাবি, বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে কোনো দল জোট ভাঙার পথে যাবে না।
জোট সূত্র জানায়, শুরুতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২০ থেকে ১৫০টি আসনের দাবি তোলে। পরে তা কমিয়ে ১০০ থেকে ১২০টি করা হয়। সর্বশেষ তারা অন্তত ৭০টি আসনের দাবি জানিয়েছে। তবে জামায়াত এ বিষয়ে এখনো সম্মতি দেয়নি। জামায়াতের পক্ষ থেকে ৩০ থেকে ৪০ আসনের প্রস্তাব আলোচনায় ছিল। এ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের ভেতরে অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানান। তিনি দাবি করেন, তাদের দল ১৪৩টি আসনে শক্ত অবস্থানে থাকলেও সে অনুযায়ী সমঝোতা হচ্ছে না। তার বক্তব্যে এক বাক্স নীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে।
ইসলামী আন্দোলনের এক শীর্ষ নেতা বলেন, তারা ঐক্য ভাঙতে চান না, তবে সমঝোতা হতে হবে ইনসাফের ভিত্তিতে। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন জানান, কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও আলোচনা চলছে এবং ১৯ জানুয়ারির মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে। তার ভাষায়, বড় কোনো সংকট নেই, বরং শঙ্কার চেয়ে প্রোপাগান্ডাই বেশি। সমস্যা থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au