বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই সাত জেলায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জামালপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি: আসামে ১১ জন জঙ্গি সদস্য গ্রেপ্তারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র। পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (JMB)–এর শাখা সংগঠন ইমাম মাহমুদের কাফিলা (IMK) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আসাম ও ত্রিপুরার যুবকদের উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করছিল। এই সংগঠনের লক্ষ্য ছিল ভারতে জিহাদ ও সন্ত্রাসী তৎপরতা ছড়িয়ে দেওয়া। তদন্তে আরও জানা গেছে, আসামের কয়েকজন যুবক বাংলাদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে বারপেটা রোডের নিচুকা এলাকার বাসিন্দা নাসিম উদ্দিন ওরফে তামিম ইউটিউবে একটি ধর্মীয় চ্যানেলের সন্ধান পান। সেখানে “মুজাদ্দিদ” নামে এক ধর্মীয় নেতার আগমনের কথা প্রচার করা হচ্ছিল। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি ১০০ বছরে একজন মুজাদ্দিদ পৃথিবীতে আসেন মুসলিমদের রক্ষা ও ধর্ম পুনরুজ্জীবনের জন্য। ওই ইউটিউব চ্যানেলে দাবি করা হয়, সেই মুজাদ্দিদ ইতোমধ্যেই পৃথিবীতে এসেছেন এবং তাঁর নাম ইমাম মাহমুদ।
তামিম জানতে চাইলে চ্যানেলের পরিচালনাকারী জানায়, তার নাম খালিদ, তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা। চ্যানেলে একটি ইউজার আইডি দেওয়া ছিল, তাতে ক্লিক করতেই তামিমের সামনে খালিদের নামে একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলে যায়। সেখানে কোরআন, হাদিস ও নানা ধর্মীয় বইয়ের পিডিএফ পাওয়া যায়।
পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, খালিদ বাংলাদেশের উমর, সুজন বিন সুলতান ও শামীম বারাহ, পশ্চিমবঙ্গের মীর রহমান এবং আগরতলার জাগির মিয়ার নির্দেশে কাজ করছিল। তারা হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দাবি করছিল যে মুজাদ্দিদের আগমন ঘটেছে এবং এখনই ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময় এসেছে।
খালিদ পরে “পুর্ব আকাশ” নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ তৈরি করেন এবং নিজেই এর অ্যাডমিন ছিলেন। পরে তিনি গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গিয়ে তামিমকে অ্যাডমিন বানান। এরপর তিনি ওই গ্রুপে একের পর এক সদস্য যোগ করতে থাকেন—যাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ সিদ্দিক আলি, রশিদুল আলম, দিলদার রাজ্জাক, জাকির হুসেন, জুনাব আলি, মিজানুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমান, ইয়াকুব আলি, মতিবুল ইসলাম, ফারুক আব্দুল্লাহ, আফরাহিন হুসেন, সুলতান মাহমুদ, মহিদুল ইসলাম, চাঁনবর আলি, শাহরুখ হুসেন, মাহিবুল খান, রাকিবুল ইসলাম, মানিরুল ইসলাম, আবদুর রফিকসহ আরও অনেকে।
এই গ্রুপে তামিমকে বাংলাদেশের উমর, সুজন, খালিদ ও অন্যান্যদের নির্দেশে “গাজওয়াতুল হিন্দ”–এর বার্তা ছড়িয়ে দিতে বলা হয়। খালিদ এমন কিছু বইয়ের উদ্ধৃতি দিত যেখানে বলা হচ্ছিল, মুজাদ্দিদ হিসেবে ইমাম মাহমুদের আবির্ভাবের পর ভারত দখল করে সেখানে মুসলিম শাসন কায়েম করার সময় এসে গেছে।
তবে তদন্তে পুলিশ দেখতে পেয়েছে, এসব বই ছিল ভুয়া। IMK একটি উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে “গাজওয়াতুল হিন্দ”–এর নামে ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মীয় যুদ্ধের ধারণা ছড়াচ্ছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুদের হত্যা করে ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করা।
পুলিশ বলছে, এই চক্র শুধু আসামেই নয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং বাংলাদেশ থেকেই এর মূল নিয়ন্ত্রণ পরিচালিত হচ্ছিল। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিবাদের বিস্তার ঠেকাতে সীমান্তপারের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি কতটা জরুরি।
রিপোর্ট: আর. দত্ত চৌধুরী
সূত্র: দ্য আসাম ট্রিবিউন
দ্য আসাম ট্রিবিউন থেকে অনুবাদকৃত
OTN Bangla online desk
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au