তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ১০ জানুয়ারি- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তারেক রহমান। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এতদিন আসেনি। সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো।
বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ (গ) ধারায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই ধারার উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের সব দায়িত্ব পালন করেন। এই বিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এদিকে, গঠনতন্ত্রের একই ধারার উপধারা ৩-এ বলা হয়েছে, যে কোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত তিনি এ পদে বহাল থাকবেন। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই বিধান অনুযায়ী তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই কার্যত তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি পরিচালিত হয়ে আসছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারেননি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি মুক্তি পেলেও আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেননি। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।