কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…
মেলবোর্ন ১০ জানুয়ারি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মোবাইল ফোনের শেষ কিস্তির মাত্র ৫০০ টাকা নিয়ে বিরোধ ও অপমানের শিকার হয়ে জয় মহাপাত্র (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও স্বজনদের দাবি, দোকানদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও মারধরের ঘটনার পর মানসিক চাপে পড়ে তিনি বিষপান করেন।
শুক্রবার সকালে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জয়ের মৃত্যু হয়। তিনি দিরাই উপজেলার ভাঙাডহর গ্রামের লিটন মহাপাত্রের ছেলে।
নিহতের পিসতুতো ভাই অয়ন দাস জানান, বোরহানপুর গ্রামের মদরিস মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় মুদি দোকানদার আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে জয় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল ফোন কেনেন। সে সময় নগদ দুই হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা প্রতি সপ্তাহে ৫০০ টাকা করে কিস্তিতে দেওয়ার কথা ছিল। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও শেষ কিস্তির ৫০০ টাকা দিতে কয়েকদিন দেরি হয়।
অয়ন দাসের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাওনা টাকা দিতে দোকানে গেলে আমিরুল ইসলাম জয়কে মারধর করেন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। এ সময় তাকে অপমানজনক কথাবার্তা বলা হয়। পরে ওই দোকান থেকেই জয় ইঁদুর মারার বিষ কিনে বাড়ি ফেরেন বলে পরিবারের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত সাড়ে সাতটার দিকে জয় বিষপানের কথা স্বীকার করলে দ্রুত তাকে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মনি রানী তালুকদার বলেন, রোগীকে আনার সময়ই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত সিলেটে রেফার করা হয়।
নিহতের স্বজন বাদল দাস জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। জয়ের কাকা মিটু মহাপাত্র বলেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে।
তবে দোকানদার আমিরুল ইসলাম পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, জয়ের কাছে মোবাইল বাবদ দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং ফ্লেক্সিলোডের ৩০০ টাকা পাওনা ছিল। টাকা দিতে না পারায় তিনি শুধু মোবাইলটি দোকানে রেখে যেতে বলেছিলেন। বিষ দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নিহতের মা শেলী মহাপাত্র অভিযোগ করে বলেন, সকালে টাকা চাইলে না পেয়ে দোকানদার মোবাইল রেখে দেন। সন্ধ্যায় সিম কার্ড আনতে গেলে তার ছেলেকে মারধর করা হয়। তার দাবি, সেদিন ওই দোকান থেকেই বিষ খেয়ে বাড়ি ফেরে জয়।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au