বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই সাত জেলায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জামালপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর…
মেলবোর্ন ১১ জানুয়ারি- ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বাহিনীটি নিরাপত্তাকে ‘রেড লাইন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরকারি সম্পদ ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের অঙ্গীকার করেছে। কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত এই বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে আইআরজিসির এমন ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়। সাম্প্রতিক সহিংসতা আর গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে আইআরজিসি জানায়, সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থাপনায় হামলা, সরকারি সম্পদে অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তা সদস্যদের ওপর আক্রমণের জবাব দেওয়া হবে কঠোরভাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোর পরই এই বিবৃতি আসে। শনিবার মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সাহসী জনগণের পাশে’ রয়েছে। তেহরান শুরু থেকেই এই বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরছে এবং এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকার অভিযোগ করছে।
শুক্রবার রাতেও দেশের বিভিন্ন শহরে অস্থিরতা অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পৌর ভবনে আগুন দেয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শিরাজ, কোম ও হামেদানে বিক্ষোভ চলাকালে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য সম্প্রচার করা হয়।
মূলত লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীরা এখন সরাসরি ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ইরানের পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সেখানে আইআরজিসি মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আরেক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসীরা’ সামরিক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং সরকারি সম্পদ ধ্বংস করেছে।
আইআরজিসির পাশাপাশি ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীও ঘোষণা দিয়েছে যে, তারা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নির্দেশে জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত অবকাঠামো এবং জনগণের সম্পদ রক্ষায় প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি বিদেশ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জোরদার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য এখন শুধু রাস্তায় নামা নয়, বরং শহরের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো দখল ও নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তিনি পরিবহন, তেল, গ্যাস ও জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ধর্মঘটে নামার আহ্বান জানান।
তবে গত বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতে আগ্রহী নন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্য সমর্থন দেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এর মধ্যেই ট্রাম্প ইরান সরকারকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি যোগ করেন, ইরান এখন ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায়’ রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া উচিত।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, বিদেশি চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মুখে ইরান এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au