আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন- ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে পরিস্থিতি ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের কথাও জানিয়েছে দেশটি, যা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে কয়েক দিন ধরে টানা প্রাণঘাতী বিক্ষোভ চলছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দেশ শাসন করে আসা ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে বিস্তৃত গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণ যে স্বাধীনতার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে ইসরায়েল সমর্থন জানায় এবং তাদের সাফল্য কামনা করে। সার বলেন, ইরানের জনগণ স্বাধীনতার যোগ্য এবং তাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো শত্রুতা নেই।
তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। গিদিওন সার বলেন, ইসরায়েলের মূল সমস্যা ইরানি জনগণ নয়, বরং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা। তার ভাষায়, এই শাসনব্যবস্থা শুধু ইসরায়েলের জন্য নয়, পুরো অঞ্চল ও আন্তর্জাতিক সমাজের জন্যই একটি বড় সমস্যা, কারণ এটি সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
এর মধ্যেই ইসরায়েলের একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা আলাদা এক বিবৃতিতে জানান, ইরানের পরিস্থিতি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, যদিও ইরানের বিক্ষোভ দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়, তবু সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং সামরিক সক্ষমতা ও অভিযানের প্রস্তুতি ধারাবাহিকভাবে জোরদার করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়ার জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত থাকার অভিযোগ করে আসছে। তেহরানের দাবি, এই দুই দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করতে এবং জাতীয় ঐক্য দুর্বল করতে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এরই মধ্যে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ রোববার আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে ইরান দখলকৃত ভূখণ্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও নৌ-পরিবহনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানবে। তার ভাষায়, এসব লক্ষ্যবস্তু ইরানের বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানে বিক্ষোভ, ইসরায়েলের প্রকাশ্য সমর্থন এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্রঃ এএফপি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au